মালদহে বিচারক ঘেরাও কাণ্ডে গ্রেফতার আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি সহ ১৮
মালদহের কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহজাহান আলির পাশাপাশি এই তাণ্ডবে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১৭ জনকে জালে তুলেছে পুলিশ প্রশাসন। ধৃতদের সকলকেই বৃহস্পতিবার মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে প্রশাসনিক কাজে আসা সাত জন বিচারককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের ঘেরাও করে রাখে। এই ঘেরাওয়ের ফলে বিচারকদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় এবং ব্লক চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘেরাও হওয়া বিচারকদের মধ্যে তিন জন মহিলাও ছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে ওই ব্লক অফিসে বিচারকরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকে ছিলেন। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পুলিশি হস্তক্ষেপে বিচারকরা অবশেষে ঘেরাওমুক্ত হন। এই ঘটনার পরেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্তে নামে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে ধরপাকড় শুরু হয়।
এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং উস্কানিদাতা হিসেবে মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলির নাম উঠে আসায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, সরকারি আধিকারিক তথা বিচারকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ১৭ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা এই অশান্তির নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।
মালদহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক কাজে আসা বিচারকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ ঘটনার গভীরতা যাচাই করার চেষ্টা করছে। আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও কাউকে গ্রেফতার করা হবে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে জেলাবাসীর।
বর্তমানে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিস সংলগ্ন এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। বিচারকদের ঘেরাও করার মতো নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বিচারবিভাগীয় কর্মীরাও। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।