হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় ঘোষণা, ইরানের সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে ভারতীয় জাহাজ

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের আবহে ভারতবাসীকে বড়সড় স্বস্তি দিল তেহরান। যুদ্ধজর্জর হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে সাফ জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ভারতীয় ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথে ভারত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে ইরান এই জলপথ রুদ্ধ করলেও ভারতের মতো বন্ধু দেশগুলোর জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই জলপথে ভারতীয় জাহাজগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী আটটি জাহাজ ইতিমধ্যেই নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল প্রায় ৯৪ হাজার টন গ্যাস নিয়ে ‘বিডব্লিউ ইএলএম’ এবং ‘বিডব্লিউ টিওয়াইআর’ নামক দুটি বিশালকার জাহাজ ভারতে প্রবেশ করেছে। এই সরবরাহ ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত কারণে ভারতীয় জাহাজগুলো বর্তমানে কিছুটা ঘুরপথে চলাচল করছে। তেহরান প্রশাসন যাতে ভারতীয় জাহাজগুলোকে সহজেই শনাক্ত করতে পারে এবং কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না থাকে, সেই কারণেই এই বিশেষ রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সমন্বয় ভারত ও ইরানের মধ্যকার গভীর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
বর্তমানে হরমুজ সংলগ্ন এলাকায় আরও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ফাঁকা জাহাজগুলোতে এলপিজি লোড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই জাহাজগুলো দ্রুত দেশে ফিরলে ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই আশ্বাসবাণী ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভরসা জোগাচ্ছে।