সংসদ থেকে পাস হলো কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী প্রশাসন বিল ২০২৬

সংসদে বৃহস্পতিবার ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে গেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সাধারণ প্রশাসন) বিল, ২০২৬’। লোকসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর বিলটি অনুমোদিত হওয়ার সাথে সাথেই সংসদের উভয় কক্ষেই এর আইনি বৈধতা নিশ্চিত হলো। এর আগে বুধবার রাজ্যসভায় বিলটি গৃহীত হয়েছিল। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) উচ্চতর পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করে তোলা।
লোকসভায় বিলটি নিয়ে আয়োজিত বিতর্কের শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, এই নতুন আইন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে। তিনি দাবি করেন, আইনটি কার্যকর হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে আগের চেয়ে অনেক উন্নত সমন্বয় তৈরি হবে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। সিএপিএফ, রাজ্য পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে কাজের সঠিক তালমেল স্থাপন করা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রশাসনিক স্তরে নিয়োগের এই নতুন স্বচ্ছতা নিরাপত্তা বলয়কে নিশ্ছিদ্র করতে সহায়তা করবে। যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, বিলটি ঘিরে সংসদে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই বিলের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেন, এই নতুন নিয়ম কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দিষ্ট রায়ের প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন যে, সরকার আইনি মারপ্যাঁচে বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে সিএপিএফ জওয়ানদের মধ্যে বাড়তে থাকা আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়েও তিনি সরব হন।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদবও বিলটি নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার এই বিলটি পেশ করার আগে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রকৃত প্রতিনিধিদের সাথে পর্যাপ্ত আলোচনা বা পরামর্শ করার প্রয়োজন বোধ করেনি। একতরফাভাবে এই বিল চাপিয়ে দেওয়ার ফলেই বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা।
তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও বিতর্কের মাঝেই বিলটি সংসদে চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ায় বাহিনীর প্রশাসনিক রদবদলে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। এখন থেকে পদস্থ আধিকারিকদের নিয়োগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকার এই নতুন নীতিমালার সাহায্য নেবে। নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণে এই আইন কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে দেশের প্রশাসনিক মহলের।