বিদেশি অনুদান নিয়ে বিতর্ক ও এফসিআরএ সংশোধন বিল ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি

ভারতে বিদেশি অনুদানের ভূমিকা এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি সংসদে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ সংশোধন বিল পাসের সিদ্ধান্ত থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সরে আসা এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর বিরোধিতার মুখে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে এর পেছনে ধর্মীয় ও কৌশলগত সমীকরণ কাজ করছে। বিশেষ করে কেরালায় খ্রিস্টান ভোটারদের মন পেতেই সরকার বর্তমানে পিছু হটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলো এবং ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া এই প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তনকে ‘বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই নিয়ম পরিবর্তনের লক্ষ্য মূলত নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কোণঠাসা করা। অন্যদিকে, বিজেপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে, বিদেশি অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ধর্মান্তরকরণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে বিদেশি অনুদান ইস্যুটি এখন কেবল প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক তর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি অনুদানকে কেবল সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত নয়। দেশের উন্নয়নে এর গুরুত্ব কতখানি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধে যেকোনো দেশেরই কঠোর নিয়ম করার অধিকার থাকলেও, সেই প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগৃহীত হওয়া জরুরি। যখনই কোনো সরকারি উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়, তখনই জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যা এই বিলের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হচ্ছে।