ওভারিয়ান সিস্ট কি অস্ত্রোপচার ছাড়াই সারে, জানুন ঠিক কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওষুধে কাজ হয়!

মেয়েদের মধ্যে ওভারিয়ান সিস্ট বা ডিম্বাশয়ে তরল-ভরা থলি তৈরি হওয়া বর্তমানে একটি অতি সাধারণ সমস্যা। আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে সিস্ট ধরা পড়লেই অনেক নারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ধরে নেন যে অস্ত্রোপচারই হয়তো একমাত্র পথ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, সব ধরনের সিস্ট বিপজ্জনক নয় এবং সঠিক পর্যবেক্ষণে থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। মূলত হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা বা মাসিক চক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটলে এই ধরণের সিস্ট তৈরি হয়।
কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না?
আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সালোনি চাড্ডার মতে, সাধারণত ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত আকারের ছোট ও সাধারণ (Simple) ওভারিয়ান সিস্টগুলো কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সেরে যেতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া এই সিস্টগুলো অনেক সময় কয়েক মাসের মধ্যে নিজে থেকেই সংকুচিত হয়ে যায়। এই অবস্থায় চিকিৎসকরা রোগীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বা ‘ওয়াচফুল ওয়েটিং’-এ রাখেন এবং ওষুধ ও নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সিস্টের গতিপ্রকৃতি পরীক্ষা করেন। যদি সিস্টের ভেতরে কোনো কঠিন পদার্থ না থাকে এবং রোগীর উল্লেখযোগ্য ব্যথা বা অস্বস্তি না হয়, তবে অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব।
অস্ত্রোপচার কখন অপরিহার্য হয়ে ওঠে?
সিস্টের আকার যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে কিংবা তা আকারে অনেক বড় হয়ে যায়, তবে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। এছাড়া যদি আল্ট্রাসাউন্ডে সিস্টের মধ্যে কোনো জটিল পরিবর্তন বা কঠিন উপাদান দেখা যায়, কিংবা ক্যান্সারের সামান্যতম সন্দেহ থাকে, তবে দেরি না করে অস্ত্রোপচার করাই শ্রেয়। তীব্র পেটে ব্যথা, ক্রমাগত পেট ফুলে থাকা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া এবং সিস্ট ফেটে যাওয়া বা ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যাওয়ার (Torsion) মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা প্রজনন ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, পেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক মাসিকের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরণের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।