জ্বলছে ইজরায়েলি জাহাজ ও উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় সংকটের মেঘ

বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই জলপথ এখন আর আমেরিকার প্রয়োজন নেই এবং যারা এখান থেকে তেল নিতে চায়, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ন্যাটো দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে সাহায্য না করলে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। তবে ফ্রান্স এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ন্যাটোর কাজ কেবল ইউরোপের রক্ষা করা এবং এই বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এই পরিস্থিতির মাঝেই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে ইরান। এর ফলে চিন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে, কারণ তারা তেলের জন্য ৯০ শতাংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইজরায়েলি তেলবাহী জাহাজ ‘অ্যাকোয়া-১’ মাঝসমুদ্রে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনার পর বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৪০০-এর বেশি তেলের জাহাজ সমুদ্রে আটকে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিন এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি আমেরিকা ও ইজরায়েলকে দায়ী করেছে। একদিকে যুদ্ধের দামামা আর অন্যদিকে তেলের সংকট— সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বনেতারা এখন এই সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।