ধোনিকে আউট করাই ছিল তুরুপের তাস, বিদায়বেলায় পুরনো রহস্য ফাঁস করলেন অশ্বিন!

২০২৫ আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতেই বর্ণাঢ্য ক্রিকেট কেরিয়ারের ইতি টেনেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বিদায়বেলায় দাঁড়িয়ে এই কিংবদন্তি অফ-স্পিনার ফিরে দেখলেন তাঁর শুরুর দিনগুলো। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরুটা যে কতটা নাটকীয় ছিল, সেই অজানা অধ্যায় ভাগ করে নিলেন তিনি। অশ্বিনের স্মৃতিচারণায় উঠে এল এক তরুণ ক্রিকেটারের জেদ এবং ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের জহুরির চোখে প্রতিভা চেনার গল্প।
একটি উইকেট আর সিএসকে-তে ঢোকার মরিয়া চেষ্টা
২০০৮ সালের চ্যালেঞ্জার্স ট্রফিতে ঘটেছিল সেই স্মরণীয় ঘটনা। তখন অশ্বিন একেবারেই নবাগত। সেই ম্যাচে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে আউট করার পর অশ্বিন এমন এক বাঁধনহারা উল্লাস করেছিলেন, যা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। অশ্বিন আজ খোলসা করলেন যে, সেই সেলিব্রেশনের নেপথ্যে ছিল চেন্নাই সুপার কিংসে জায়গা করে নেওয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানতেন, খোদ ধোনিকে পরাস্ত করতে পারলেই মাহির নজর কাড়া সম্ভব হবে। তাঁর সেই আগ্রাসী মানসিকতা আর পারফর্ম করার জেদ দেখেই ধোনি তাঁকে সিএসকে-র শিবিরে টেনে নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করে।
হলুদ জার্সিতেই পূর্ণ বৃত্তের সমাপ্তি
কেরিয়ারের দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অশ্বিন মাঝপথে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেললেও, তাঁর হৃদয়ে সবসময়ই হলুদ জার্সির এক বিশেষ জায়গা ছিল। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়াম থেকেই যে জয়যাত্রার শুরু হয়েছিল, শেষ লগ্নে এসে সেই মাঠেই তিনি ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। এই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অশ্বিন। মাঠের লড়াই এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এই কাহিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক গভীর আবেগ হিসেবে ধরা দিয়েছে। এই অবসরের ফলে আইপিএলের আঙিনা থেকে এক অভিজ্ঞ স্পিন-মস্তিষ্কের বিদায় ঘটল, যার অভাব আগামী মরসুমগুলোতে চেন্নাইয়ের বোলিং আক্রমণে বিশেষভাবে অনুভূত হবে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।