মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল ইরান, পাইলটকে জীবিত ধরতে পারলেই মিলবে বিপুল পুরস্কার

ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী চলমান সংঘাতের আবহে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় ভেঙে পড়েছে একটি মার্কিন F-15E ফাইটার জেট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানের অভ্যন্তরে কোনও মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। সূত্রের খবর, ওই বিমানে একজন পাইলট এবং একজন ওয়েপন-সিস্টেম অফিসারসহ মোট দু’জন সওয়ার ছিলেন। মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস ইতিমধ্যেই একজন ক্রু মেম্বারকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপরজনের খোঁজ এখনো মেলেনি।
নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে খুঁজে বের করতে ইরানজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে নাগরিকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রচারিত বার্তায় জানানো হয়েছে, কোনো সাধারণ নাগরিক যদি শত্রু দেশের পাইলটকে জীবিত অবস্থায় ধরে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারেন, তবে তাঁকে বহুমূল্য পুরস্কার দেওয়া হবে। মূলত কোহগিলুই ও বুয়ের-আহমদ প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সরকারি চ্যানেলে এই সংক্রান্ত অন-স্ক্রিন সতর্কবার্তাও প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষ তাঁদের নিজস্ব যানবাহন নিয়ে ক্র্যাশ সাইট বা বিমান ভেঙে পড়ার স্থলের দিকে রওনা দিয়েছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন পাইলটকে খুঁজে বের করে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে ঘোষিত পুরস্কার জয় করা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনরোষ নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নেমেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সরকারি সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-র মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে বহু মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাইলটকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছেন। তবে সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে সংযম বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পাইলটকে খুঁজে পাওয়া গেলেও যেন তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার দুর্ব্যবহার বা অমানবিক আচরণ করা না হয়।
বর্তমানে ক্র্যাশ সাইটের ওপর দিয়ে মার্কিন হেলিকপ্টার ও অন্যান্য উদ্ধারকারী বিমানকে নিচু উচ্চতায় উড়তে দেখা গেছে। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোও নিশ্চিত করেছে। কোহগিলুই ও বুয়ের-আহমদ প্রদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী চাহারমহাল ও বখতিয়ারি বিভাগেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।