৩৭ বছর পর ফাঁস হলো বিএসএফ জওয়ানের জাল মার্কশিট, বরখাস্তের নির্দেশে সিলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্ট

দীর্ঘ ৩৭ বছর দেশসেবার পর কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে এসে চরম বিপাকে পড়লেন এক বিএসএফ জওয়ান। মাধ্যমিকের জাল শংসাপত্র জমা দিয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগে ওই কর্মীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কয়েক দশকের পুরনো এই জালিয়াতি বিভাগীয় তদন্তে ধরা পড়ায় আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় চার দশক আগে মাধ্যমিক পাসের নথিপত্র জমা দিয়ে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীতে জওয়ান হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি বিএসএফ কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা যায়, নিয়োগের সময় জমা দেওয়া সেই সার্টিফিকেটটি ছিল সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে দীর্ঘ কর্মজীবনও তাকে এই জালিয়াতির দায় থেকে বাঁচাতে পারেনি।
মামলার পর্যবেক্ষণে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত চাকরি কখনোই বৈধ হতে পারে না। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিএসএফ-এর মতো সংস্থায় এ ধরনের অসততা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়োগের সময় ভুল তথ্য প্রদান করা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে।
এই আদেশের ফলে ওই ব্যক্তির দীর্ঘ ৩৭ বছরের পরিষেবা কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়ল। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার পেনশন এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। আদালতের এই কঠোর অবস্থান সরকারি চাকরিতে কর্মরত এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জালিয়াতি করে কর্মজীবন শুরু করলেও সত্য যে কোনো সময় সামনে আসতে পারে, এই রায় তারই প্রমাণ।