কেন্দ্রের মিত্র এখন রাজ্যের প্রবল প্রতিপক্ষ, বাংলায় মমতা শিবিরের মাথাব্যথার কারণ কংগ্রেসের রণকৌশল

জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক হলেও, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে নিজেদের শূন্য আসন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিতেই আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছে হাইকম্যান্ড। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং পুরুলিয়ার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দিচ্ছে দল। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার একাধিক জনসভার পাশাপাশি তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলেও শক্তি বাড়াতে মরিয়া শতাব্দী প্রাচীন এই দল।
তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারের মূল অস্ত্র করেছে কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ে তৃণমূল নেত্রী রাজ্যের বকেয়া টাকা নিয়ে সরব হচ্ছেন না বলে দাবি কংগ্রেস নেতাদের। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে রেখে রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলছে তারা। দলিত ভোটব্যাঙ্ককে টানতে রাজ্যে একাধিক সভা করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর-পার লড়াইয়ের কৌশল ভবিষ্যতে দুই দলের কেন্দ্রীয় জোটের সমীকরণে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে কংগ্রেসের এই কঠোর অবস্থান এবং বামেদের সঙ্গে সম্ভাব্য বোঝাপড়া বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে ত্রিমুখী উত্তেজনায় পৌঁছে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গে কংগ্রেসের এই সেন্ধি কাটার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কার সুবিধা করবে, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে।