নিউ মার্কেটে ‘বুলডোজার’ আতঙ্ক! দোকান ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সরব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী উত্তাপের মাঝেই এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট এলাকা। মঙ্গলবার রাতে একদল উন্মত্ত জনতা বুলডোজার নিয়ে এলাকায় চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দিকে আঙুল তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমার বুকে নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বুলডোজার ও ধর্মীয় স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বিজয়ী শিবিরের একদল সমর্থক ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে নিউ মার্কেট এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর একটি বুলডোজার দিয়ে বেশ কিছু দোকানপাট ও একটি দলীয় কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতর্কিত এই হামলায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সাংসদ অভিযোগ করেছেন যে, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরণের তাণ্ডব চললেও পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের বড় একটি অংশ এই ঘটনাটি এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, শহরের ব্যস্ততম একটি বাণিজ্যিক এলাকায় কীভাবে বুলডোজার নিয়ে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সম্ভব হলো? তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের এই আবহে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই হামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে—তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়ার কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা কমাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রের একাংশ আবার দাবি করছে যে, ওই স্থাপনাটি অবৈধভাবে দখল করা ছিল। তবে যেভাবেই হোক না কেন, নিউ মার্কেটের মতো জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে ভাঙচুরের এই ঘটনা কলকাতার জননিরাপত্তার ওপর বড় এক আঘাত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।