এক হামলায় স্তব্ধ হবে উপসাগরীয় বাণিজ্য! ইরানের নিশানায় থাকা কিং ফাহদ কজওয়ে বন্ধ করল সৌদি আরব

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে সৌদি আরব তড়িঘড়ি বন্ধ করে দিয়েছে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ ‘কিং ফাহাদ কজওয়ে’। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার হুমকি দেওয়ার পরই সৌদি কর্তৃপক্ষ এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত আমেরিকা ঘনিষ্ঠ সৌদি আরব ও বাহরাইনের এই সংযোগকারী সেতুটি ইরানের পাল্টা হামলার নিশানায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মঙ্গলবার আরবের একটি পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে হামলা চালিয়ে ইরান তাদের রণকৌশল স্পষ্ট করেছে।
এই সেতুটি শুধুমাত্র দুই দেশের সংযোগকারী পথ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন। প্রতি বছর প্রায় ৫.২ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সৌদির প্রায় ৯০ শতাংশ স্থলপথের বাণিজ্য এই সেতু দিয়েই পরিচালিত হয়। একইভাবে বাহরাইনের পর্যটন শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য। ফলে এই পথ বন্ধ হওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে দেশগুলি।
ইরানের সঙ্গে বাহরাইনের শত্রুতার ইতিহাস বেশ পুরনো। অতীতে বাহরাইন ইরানের অধীনে থাকলেও বর্তমানে তারা আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব এবং ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে কড়া অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইন এখন তেহরানের চক্ষুশূল। শিয়া প্রধান জনবসতি হওয়া সত্ত্বেও সুন্নি রাজতন্ত্র শাসিত বাহরাইনের প্রতি ইরানের এই রাজনৈতিক বিরোধই বর্তমান সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।