আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকে তুলকালাম বচসা ও শ্রীলেখার অশ্রুসজল প্রস্থান

আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকে তুলকালাম বচসা ও শ্রীলেখার অশ্রুসজল প্রস্থান

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে অভিনয় জগতের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে কর্মবিরতি ও জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, শুভশ্রী থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির শিল্পীরা এই আলোচনায় অংশ নেন। তবে আলোচনার মাঝেই হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে স্টুডিয়ো চত্বর ছাড়তে দেখা যায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে।

অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শ্রীলেখা মিত্র অভিযোগ তোলেন যে, তাঁকে দিনের পর দিন মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এমনকি নাম না করে তিনি দাবি করেন, মানসিক অত্যাচার করেও মানুষকে মেরে ফেলা যায়। এই মন্তব্যে উপস্থিত শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেকেই বিরক্ত হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মেজাজ হারান এবং কৌশিক সেন শ্রীলেখার আচরণের তীব্র বিরোধিতা করেন।

বৈঠকের উত্তপ্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার টেবিলের ওপর উঠে হাতজোড় করে সকলকে বচসা থামানোর অনুরোধ জানান। কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, কেন এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত বিবাদ বড় হয়ে উঠছে। তিনি উপস্থিত সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বজায় রাখার আবেদন জানান। এই ঘটনার পরই শ্রীলেখা মিত্র ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।

উল্লেখ্য, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শিল্পীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা ইতিমধ্যে ইম্পা (IMPA) এবং বিভিন্ন চ্যানেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে শ্রীলেখা মিত্রের তোলা অভিযোগ এবং স্টুডিয়োর অন্দরে হওয়া এই চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *