শবরীমালা মামলা: ঋতুচক্রের দোহাই দিয়ে অস্পৃশ্যতা নয়, সুপ্রিম কোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

শবরীমালা মামলা: ঋতুচক্রের দোহাই দিয়ে অস্পৃশ্যতা নয়, সুপ্রিম কোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

শবরীমালা মন্দিরে ঋতুবতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শুনানির সময় বিচারপতি বি ভি নাগারত্না স্পষ্ট জানান, কোনো মহিলাকে মাসের নির্দিষ্ট তিন দিন অস্পৃশ্য হিসেবে গণ্য করে চতুর্থ দিনে সেই তকমা সরিয়ে নেওয়া যায় না। অস্পৃশ্যতার এই ধারণা লিঙ্গবৈষম্যের পরিচায়ক বলেই মনে করছে শীর্ষ আদালত।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের একটি অংশের তীব্র বিরোধিতা করেন। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘অস্পৃশ্যতা’র শামিল। মেহতার যুক্তি ছিল, ভারতের সামাজিক কাঠামো পশ্চিমী ধারণার মতো পুরুষতান্ত্রিক বা লিঙ্গ বৈষম্যমূলক নয়। তিনি দাবি করেন, শবরীমালা মন্দিরের এই বিধিনিষেধ কেবল একটি নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের জন্য এবং এটি ভগবান আয়াপ্পার মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা মাত্র।

পাল্টা যুক্তিতে বিচারপতি নাগারত্না বলেন, ঋতুচক্রের ভিত্তিতে অস্পৃশ্যতার ধারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রসঙ্গত, এর আগে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন, বয়স বা ঋতুচক্রের কারণে মহিলাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া তাঁদের মর্যাদাহানি করে এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয়। বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তুষার মেহতা অবশ্য স্পষ্ট করে দেন যে, সারা বিশ্বে ভগবান আয়াপ্পার অন্যান্য মন্দির সব বয়সের নারীদের জন্য খোলা থাকলেও, শুধুমাত্র এই একটি মন্দিরের বিশেষত্বের কারণেই এমন বিধিনিষেধ বলবৎ ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *