মধ্য এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মাঝেও চীনের রহস্যময় নীরবতা কেন এই বিশেষ কৌশল

মধ্য এশিয়ায় চরম উত্তেজনার মাঝেও চীনের রহস্যময় নীরবতা কেন এই বিশেষ কৌশল

মধ্য এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত যখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি চীন এক অদ্ভুত কৌশলী নীরবতা অবলম্বন করছে। আন্তর্জাতিক মহলে বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে অনেকেই মজা করে ‘ইট ফাইভ-স্টার, ডু নাথিং’ বা আরামদায়ক নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে অভিহিত করছেন। যেখানে অন্যান্য ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলি কোনো না কোনোভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, সেখানে চীন যেন দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরবতা আসলে চীনের এক সুগভীর ও হিসেবি কৌশল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে নিজেদের সম্পদ ও সময় ব্যয় করবে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের পথ চীনের জন্য ততই প্রশস্ত হবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনকে ব্যতিব্যস্ত রেখে বেইজিং নিজের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ করে নিচ্ছে। একে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষায় ‘স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্স’ বা কৌশলগত ধৈর্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

চীনের এই কৌশলের নেপথ্যে বড় কারণ হলো তার বিশাল বাণিজ্যিক স্বার্থ। ইরান চীনের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস, আবার সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও বেইজিংয়ের গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান। এমতাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট একটি পক্ষ অবলম্বন করলে চীনের এই অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। চীন নিজেকে বিশ্বমঞ্চে একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যা তারা অতীতে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা করে প্রমাণ করেছে।

তবে এই নিষ্ক্রিয়তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। চীনের এই কৌশল বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে লাভজনক মনে হলেও, মধ্য এশিয়ার সংঘাত যদি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তবে বেইজিং হয়তো শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হবে। আপাতত সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে নিজের স্বার্থ রক্ষা করাই চীনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *