মৃতদেহের চর্বিতেই মিলবে আকর্ষণীয় ফিগার, আমেরিকার এই অদ্ভুত সৌন্দর্য চর্চায় বাড়ছে বিতর্ক

মৃতদেহের চর্বিতেই মিলবে আকর্ষণীয় ফিগার, আমেরিকার এই অদ্ভুত সৌন্দর্য চর্চায় বাড়ছে বিতর্ক

মার্কিন মুলুকে সম্প্রতি এক বিচিত্র ও বিতর্কিত কসমেটিক ট্রেন্ডের উদ্ভব হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের দান করা দেহ থেকে সংগৃহীত চর্বি ব্যবহার করে নারীরা নিজেদের শরীরের গঠন পরিবর্তন করছেন। বিশেষ করে ‘আওয়ারগ্লাস ফিগার’ বা কাঙ্ক্ষিত শারীরিক অবয়ব পেতে এই ফ্যাট ইনজেকশন দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংগৃহীত এই চর্বি বা টিস্যুগুলোকে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ করা হয়। এতে কোনো জীবিত কোষ বা ডিএনএ থাকে না বলে শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে বলে দাবি করা হচ্ছে।

যাঁদের শরীরে নিজস্ব চর্বির পরিমাণ কম কিংবা আগে লিপোসাকশন করানোর ফলে পর্যাপ্ত ফ্যাট নেই, তাঁরাই মূলত এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবে শরীরের হারানো শ্রী ফিরিয়ে আনতে হিপ ডিপস ভরাট বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ভলিউম বাড়াতে এই ইনজেকশন কার্যকর হচ্ছে। জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার প্রয়োজন না হওয়ায় এবং ক্লিনিকে অল্প সময়েই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব বলে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এই পদ্ধতির ব্যয় আকাশচুম্বী, যা প্রায় ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

সুবিধার পাশাপাশি এই কসমেটিক চিকিৎসায় রয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, ভুল পদ্ধতিতে ইনজেকশন দিলে চর্বি রক্তনালীতে মিশে ‘ফ্যাট এম্বোলিজম’ তৈরি করতে পারে, যা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এছাড়া শরীরে ইনফেকশন বা চর্বি জমাট বাঁধার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে স্তনের টিস্যুতে এই ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে ক্যানসার স্ক্রিনিং বা ম্যামোগ্রাম করার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

প্রযুক্তিগতভাবে এই প্রক্রিয়াটি অভিনব হলেও এটি নিয়ে তীব্র নৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মরণোত্তর দেহ দানকারীরা গবেষণার উদ্দেশ্যে নিজেদের শরীর উৎসর্গ করলেও, তা কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এথিক্যাল সোর্সিং বা নৈতিক উপায়ে সংগ্রহের দাবি করা হলেও দানকারীদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এই প্রক্রিয়াটি সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সব মিলিয়ে আধুনিক এই সৌন্দর্য চর্চা বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সীমারেখাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *