শবরীমালা মামলায় সতীদাহ প্রথার উদাহরণ টেনে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

কেরলের শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র দাবি করে, কোনো ধর্মীয় আচার কুসংস্কার কি না তা বিচার করার এক্তিয়ার আদালতের নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সতীদাহ প্রথা ও নরবলির মতো উদাহরণ টেনে কড়া জবাব দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, ধর্মীয় রীতি যদি সংবিধানের আদর্শের বিরোধী হয়, তবে সেখানে হস্তক্ষেপ করা আদালতের দায়িত্ব।
আদালতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন যে, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশে বাধার নেপথ্যে কোনো লিঙ্গবৈষম্য নেই; বরং এটি দেবতা আয়াপ্পার সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিনের প্রথা ও আস্থার বিষয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিচারপতিদের পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞান না থাকায় তাঁরা এসব আচারের বিচার করতে পারেন না। এই যুক্তির পালটা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত ধর্ম বিশেষজ্ঞ না হলেও ডাইনিবিদ্যা, নরবলি বা সতীদাহের মতো বিষয় যদি আদালতের বিবেককে নাড়া দেয়, তবে সেখানে আইনি হস্তক্ষেপের জন্য অন্য কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় আচারের নামে যদি ডাইনিপ্রথা চালানো হয়, তবে তাকে কি কুসংস্কার বলা হবে না? শুনানিতে বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো আচার কুসংস্কার কি না তা আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব আইনসভার। কিন্তু আইনসভার প্রতিনিধি আদালতে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন না যে বিচার বিভাগ এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবে না।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, যাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন পিটিশন দাখিল হয়েছে। শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ধর্মীয় স্বাধীনতা কখনোই মৌলিক অধিকার বা সাংবিধানিক নৈতিকতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। আদালতের এই কঠোর অবস্থান দেশজুড়ে ধর্মীয় অধিকার ও সাংবিধানিক আইনি লড়াইকে নতুন মাত্রা দিল।