ভোটের প্রচারে হেলিকপ্টার নিয়ে বিপাকে হুমায়ুন কবীর, অনুমতির অভাবে থমকে ওআইসি-র সভাও

বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপে যখন প্রচার তুঙ্গে, তখন হেলিকপ্টার বিভ্রাটে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ভোটের ময়দানে দ্রুত যাতায়াতের জন্য চেন্নাইয়ের একটি সংস্থা থেকে মোটা টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া করা হলেও প্রশাসনের ‘এনওসি’ বা অনাপত্তি পত্রের অভাবে সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে হেলিকপ্টারটি বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা কার্যত ‘সাদা হাতি’ পোষার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন দল গঠন করেছেন এবং মিম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওআইসি-র সঙ্গে জোট বেঁধে রাজ্যে ২০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। ৪ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা প্রচারের পরিকল্পনা থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র একদিন হেলিকপ্টারটি ব্যবহার করতে পেরেছেন হুমায়ুন। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ-র অনুমতি থাকলেও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে অধিকাংশ জায়গায় হেলিপ্যাড তৈরির অনুমতি মিলছে না বলে দাবি দলের নেতাদের।
হুমায়ুন কবীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম ও মালদহে তাঁর একাধিক জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু কোথাও অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও এনওসি দেওয়ার পর তা রহস্যজনকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি উত্তরবঙ্গের একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দেয়। ফলে সেখানে নির্ধারিত রাজনৈতিক সভাটিও বাতিল করতে হয়েছে।
এই প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে জোটসঙ্গী আসাদউদ্দিন ওআইসি-র ওপরেও। হুমায়ুন কবীর জানান, মিম প্রধান রাজ্যে এলেও হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি না থাকায় তাঁকে কলকাতায় বসে থাকতে হচ্ছে। ওআইসি-র সঙ্গে রাজ্যে প্রায় ২০টি যৌথ সভা এবং হুমায়ুনের নিজস্ব ৩০টি সভার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই জট না কাটলে নির্বাচনী প্রচারের বড় একটি অংশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।