প্রাচীন বিশ্বের ৫টি অদ্ভুত বিউটি টিপস যা জানলে অবাক হবেন

প্রাচীন বিশ্বের ৫টি অদ্ভুত বিউটি টিপস যা জানলে অবাক হবেন

আধুনিক প্রসাধনী বা নামী ব্র্যান্ডের সিরাম বাজারে আসার হাজার হাজার বছর আগে থেকেই রূপচর্চায় পারদর্শী ছিল প্রাচীন সভ্যতা। আজকের ‘গ্লাস স্কিন’ বা কাচের মতো স্বচ্ছ ত্বকের মোহ আসলে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। তবে সেই সময়ের রূপটানের পদ্ধতিগুলো ছিল অত্যন্ত বিচিত্র ও চমকপ্রদ। তখনকার আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত সেই সব ঘরোয়া টোটকা বর্তমান বিজ্ঞানের নজরেও অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রাচীন রূপচর্চায় শামুকের লালা ছিল অত্যন্ত সমাদৃত একটি উপাদান। আজকের জনপ্রিয় ‘স্নেইল মিউসিন’ সিরামের ধারণা মূলত সেখান থেকেই এসেছে। তখন মহিলারা সরাসরি জীবন্ত শামুক মুখের ওপর ছেড়ে দিতেন। শামুকের লালায় থাকা পেপটাইড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে বলিরেখা দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করত। এছাড়া রোমান সাম্রাজ্যে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহৃত হতো ‘ল্যানোলিন’, যা মূলত ভেড়ার লোম থেকে নিঃসৃত এক প্রকার তেল বা ঘাম।

সৌন্দর্য রক্ষায় আরও কিছু অদ্ভুত উপাদানের ব্যবহার প্রচলিত ছিল প্রাচীন বিশ্বে। ত্বককে পুষ্টি জোগাতে কুমির বা গরুর মলের পাশাপাশি ছাগল ও উটের দুধ ব্যবহার করা হতো। মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যের মূলে ছিল রাজকীয় ‘দুধ-স্নান’। দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েশনের কাজ করত। অন্যদিকে, প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে থেকেই মধু ছিল অন্যতম প্রাকৃতিক ক্লিনজার, যা ত্বককে কোমল করার পাশাপাশি ক্ষতরোগ সারাতেও ব্যবহৃত হতো।

বিবর্তনের ধারায় আজকের রূপচর্চায় মল বা ঘামের মতো সরাসরি প্রাণিজ উপাদানের ব্যবহার কমে এলেও ল্যানোলিন বা মধুর মতো উপকরণগুলো এখনও আধুনিক লিপবাম বা কোল্ড ক্রিমের অন্যতম প্রধান উপাদান। প্রাচীন সভ্যতার সেই সব অদ্ভুত ও কার্যকরী অভ্যাসগুলোই আজকের আধুনিক রূপটান শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেছে। বর্তমানের স্পা ট্রিটমেন্ট বা স্কিন কেয়ার রুটিনে এখনও টিকে আছে হাজার বছরের পুরনো সেই সব প্রাকৃতিক সিক্রেট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *