ভোটের টানে লখনউ ছাড়ছেন বাংলা ও আসামের শ্রমিকরা ব্যাহত নবাবের শহরের সাফাই পরিষেবা

সামনেই নিজেদের রাজ্যে নির্বাচন, আর সেই গণতান্ত্রিক অধিকারে শামিল হতে দলে দলে কর্মস্থল ছাড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েক হাজার শ্রমিক বর্তমানে ঘরমুখো। এর জেরে নবাবের শহরে সাফাই কর্মীদের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে শহরের নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। লখনউ পুরসভা সূত্রের খবর, প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় রাজপথ থেকে অলিগলি— সর্বত্রই আবর্জনার স্তূপ জমতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝাড়ুদারদের এই শূন্যতা পূরণ করতে বর্তমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ছে এবং তাঁদের টানা দুটি শিফটে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা মজুরিতে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দিরা নগর ও আলিগঞ্জের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে ময়লা সংগ্রহের কাজ কার্যত থমকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও আবর্জনা জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লখনউতে প্রতিদিন গড়ে ২,১০০ মেট্রিক টন আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। অতিরিক্ত পুর কমিশনার অরবিন্দ রাও জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে শতাধিক কর্মী একযোগে ছুটি নেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়র সুষমা খারখওয়াল জানান, সম্প্রতি আধার কার্ড যাচাই অভিযানে অনেক কর্মীকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকেই প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কর্মীসংকট চলছিল। এখন আসাম ও বাংলার শ্রমিকরা ভোট দিতে যাওয়ায় সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জারি রাখার পাশাপাশি দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ।