নির্বাচনে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত রাখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনের কোনও স্তরেই সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা—সবক্ষেত্রেই তাঁদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কমিশনের কড়া অবস্থান ও স্বচ্ছতার বার্তা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বুথ পাহারা এবং নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিয়মিত রাজ্য পুলিশ কর্মীরা। সিভিক ভলান্টিয়াররা স্থায়ী পুলিশ কর্মী নন, তাই তাঁদের এই ধরণের সংবেদনশীল কাজে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত জনমানসে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ।
কেন এই কঠোর বিধিনিষেধ
নির্বাচনের সময় সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার নিয়ে অতীতে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা
দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছিল যে, নির্বাচনের সময় সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ বারবার উঠেছে। এই ধরণের পক্ষপাতিত্ব রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন।
আইনি দায়বদ্ধতা ও প্রশিক্ষণ
সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং তাঁদের পেশাদার প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে স্থায়ী কর্মীদের ব্যবহারের মাধ্যমে আইনি জটিলতা এড়াতে চাইছে কমিশন। প্রশিক্ষিত ও স্থায়ী বাহিনীর মাধ্যমে স্পর্শকাতর বুথগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ কার্যকর করা রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ভিড় সামলানো—রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বড় একটি অংশ বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে রাজ্যে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকছে না। এর ফলে বুথগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিপত্য যেমন বাড়বে, তেমনই পেশী শক্তির ব্যবহারও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের কোনও কাজেই সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশ ব্যবহার করা যাবে না।
- বুথ পাহারা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেবল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নিয়মিত রাজ্য পুলিশ।
- রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত।
- নির্বাচনে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ কমিশনের।
- সিভিক কর্মীদের অনুপস্থিতিতে রাজ্যে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা প্রবল।