ভোটের আগে রণক্ষেত্র ভাঙড়, পুরো গ্রাম শ্মশান করে দেওয়ার হুমকি আইএসএফ নেতার!

ভোটের আগে রণক্ষেত্র ভাঙড়, পুরো গ্রাম শ্মশান করে দেওয়ার হুমকি আইএসএফ নেতার!

লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে চিলেতলা গ্রামে আইএসএফ এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে ‘গ্রাম শ্মশান করে দেওয়ার’ চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইএসএফ নেতা অহিদুল ইসলাম। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ধরণের মন্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

স্থানীয় সূত্রের খবর, গ্রামের বাড়িগুলিতে দলীয় পতাকা লাগানো নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, আইএসএফ কর্মীরা জোরপূর্বক বাড়ি বাড়ি পতাকা লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এরপরই অনুগামীদের নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অহিদুল ইসলাম গ্রামে পৌঁছান এবং মেজাজ হারিয়ে গ্রামবাসীদের হুমকি দেন। শাসকদলের দাবি, অহিদুল একজন দাগী অপরাধী এবং ভোটের আগে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতেই এই ধরণের উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল শিবির।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইএসএফ নেতা অহিদুল ইসলাম। তাঁর পাল্টা দাবি, তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের কর্মীদের মারধর ও গালিগালাজ করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং সমাজবিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনার জেরে ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা ভোটের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড়ের এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ভোটের দিনগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

এক ঝলকে

  • দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ের চিলেতলা গ্রামে আইএসএফ ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষ।
  • আইএসএফ নেতা অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের ‘শ্মশান করে দেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ।
  • বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
  • তৃণমূল কংগ্রেস এই হুমকির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *