স্কুলের পোশাকে নিম্নমানের অভিযোগ রুখতে এবার কঠোর নজরদারিতে রাজ্য সরকার

স্কুলের ইউনিফর্ম, জুতো এবং ব্যাগের গুণমান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য শিক্ষাদফতর। রাজ্যজুড়ে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের দেওয়া সামগ্রীর মান যাচাই করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বিকাশ ভবন থেকে।
স্কুল সামগ্রীর মান যাচাইয়ে বিশেষ পরিদর্শন
শিক্ষাদফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলা স্কুল পরিদর্শক বা ডিআই-দের (DI) সরাসরি স্কুলগুলোতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে হবে। মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
- ইউনিফর্মের কাপড়ের গুণমান ও সেলাই।
- জুতো ও স্কুল ব্যাগের টেকসই ক্ষমতা।
- সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই তদারকি প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট বিকাশ ভবনে জমা দিতে হবে। কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য
এর আগে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পড়ুয়ারা যে জুতো বা ব্যাগ পাচ্ছে তা খুব অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির কারণে নিম্নমানের সামগ্রী বিলি করার অভিযোগও উঠেছিল। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে সরাসরি তদারকি সম্ভব হবে এবং সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষক মহলের প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলো। তাদের মতে, ডিআই-দের সরাসরি স্কুল পরিদর্শনের ফলে সরবরাহকারীরা উন্নতমানের পণ্য দিতে বাধ্য হবে। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি পড়ুয়ারাও মানসম্মত পোশাক ও ব্যাগ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
একঝলকে
- স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতোর মান যাচাইয়ে কড়া নির্দেশ রাজ্য শিক্ষাদফতরের।
- ডিআই-দের প্রতিটি স্কুল পরিদর্শন করে গুণমান খতিয়ে দেখার নির্দেশ।
- তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমার শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল।
- মূল লক্ষ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি রোধ এবং পড়ুয়াদের উন্নত সামগ্রী প্রদান।
- বিকাশ ভবনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষক মহল।