‘আমাকে ভোট দিন, তৃণমূলের শাসন থেকে স্বাধীনতা দেব’, মতুয়াগড়ে নেতাজির ভঙ্গিতে হুঙ্কার মোদির!

দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে বনগাঁর ঠাকুরনগরে মতুয়াগড় থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসভার শুরুতেই ঠাকুরবাড়িতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি সরাসরি পরিবর্তনের ডাক দেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক বাণীর অনুকরণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জনগণ ভোট দিলে তিনি বাংলাকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা থেকে ‘স্বাধীনতা’ এনে দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই কৌশলগত অবস্থান।
নারী নিরাপত্তা ও সিন্ডিকেট রাজের সমালোচনা
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সন্দেশখালি ও আরজি কর আবহের সূত্র টেনে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বর্তমানে এ রাজ্যে মহিলারাই সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হচ্ছেন। তৃণমূলের তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট রাজ’ সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে দাবি করে তিনি দুর্নীতি ও বেকারত্ব থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন।
নাগরিকত্ব ইস্যুতে মোদির গ্যারান্টি
মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদিন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, মতুয়াদের স্থায়ী ঠিকানা ও পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকত্বের নথিপত্র প্রদান করা হবে। এই বিষয়টিকে ‘মোদির গ্যারান্টি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। মূলত বিজেপি সরকারের ওপর আস্থা রাখলে আইনি জটিলতা কাটিয়ে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে বলেই তাঁর দাবি।
এক ঝলকে
- ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে তৃণমূল শাসন থেকে বাংলাকে ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- নেতাজির আদলে ‘ভোটের বিনিময়ে স্বাধীনতা’র স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি।
- সন্দেশখালি ও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে সিন্ডিকেট রাজ অবসানের প্রতিশ্রুতি।
- সিএএ কার্যকর করে মতুয়াদের স্থায়ী নাগরিকত্ব ও নথিপত্র দেওয়ার বিষয়ে বড় ঘোষণা।