শবরীমালা মামলা এবং জনহিতকর আবেদনের অপব্যবহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

শবরীমালা মামলা এবং জনহিতকর আবেদনের অপব্যবহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ

শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ২০০৬ সালে এই বিষয়ে যে জনহিতকর আবেদন (PIL) গ্রহণ করা হয়েছিল, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তেমন কোনো আবেদন জমা পড়লে তা শুরুতেই খারিজ করে দেওয়া হতো। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন জনহিতকর আবেদনের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা।

পিআইএল এর অপব্যবহার ও আদালতের উদ্বেগ

আদালত কক্ষের আলোচনায় উঠে আসে যে, বর্তমানে জনহিতকর আবেদন বা পিআইএল অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন প্রশ্ন তোলেন, শবরীমালার যে প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, তা কি কোনো প্রকৃত ভক্ত করেছেন? তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল আবেদনকারী ছিল ‘ইন্ডিয়ান ইয়ং লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামক একটি আইনজীবীদের সংগঠন, যাদের সাথে মন্দিরের বা সংশ্লিষ্ট ধর্মের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই।

আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, বর্তমানে বিচারব্যবস্থা অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের নাগালে। কোনো বঞ্চিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরাসরি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। ফলে প্রক্সি বা অন্যের হয়ে আবেদন করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।

শুনানির মূল বিষয়সমূহ ও আইনি যুক্তি

শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং বিচারপতিদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উঠে আসে:

  • অদৃশ্য শিকার ও নীরব সংখ্যাগুরু: প্রধান বিচারপতি এমন আবেদনকারীদের ‘বিচারব্যবস্থার অদৃশ্য শিকার’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে তুষার মেহতা একে ‘নীরব সংখ্যাগুরু বনাম সোচ্চার সংখ্যালঘু’র লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন।
  • ধর্মীয় বিষয়ে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের সীমা: আদালত এখন এটি খতিয়ে দেখছে যে, ধর্মীয় আচার-আচরণ বা ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের সীমা ঠিক কতটুকু হওয়া উচিত।
  • সিপিসি বিধি: বিচারপতি নাগারত্ন উল্লেখ করেন, যদি কোনো মামলার যথাযথ ভিত্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরাসরি সংযোগ না থাকে, তবে দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৭ নিয়ম ১১(এ) অনুযায়ী তা শুরুতেই বাতিলযোগ্য।

শবরীমালা মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ৪:১ সংখ্যাধিক্যে শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সী নারীদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তবে ২০১৯ সালে সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়। বর্তমানে ৯ সদস্যের বেঞ্চ ধর্মীয় বৈষম্য এবং আইনি হস্তক্ষেপের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

একঝলকে

  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: ২০০৬ সালের শবরীমালা পিআইএল আজ জমা পড়লে তা সরাসরি খারিজ হতো।
  • উদ্বেগ: জনহিতকর আবেদনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা স্পনসরড এজেন্ডা চরিতার্থ করার প্রবণতা বাড়ছে।
  • আবেদনকারীর পরিচয়: শবরীমালা প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানানো মূল আবেদনকারীরা ভগবান আয়াপ্পার ভক্ত নন, বরং একটি আইনজীবীদের সংগঠন।
  • ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: ধর্মীয় বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের আইনি সীমা নির্ধারণ করবে ৯ সদস্যের বেঞ্চ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *