বরুথিনী একাদশী ২০২৬: তারিখ ও শুভক্ষণ নিয়ে সংশয় কাটল জানুন সঠিক নিয়ম ও বর্জনীয় কাজ

বরুথিনী একাদশী ২০২৬: তারিখ ও শুভক্ষণ নিয়ে সংশয় কাটল জানুন সঠিক নিয়ম ও বর্জনীয় কাজ

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের বরুথিনী একাদশী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্কৃত শব্দ ‘বরুথিনী’র অর্থ হলো ‘কবচ’ বা ‘সুরক্ষা’। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ব্রত পালন করলে ভক্ত সমস্ত নেতিবাচকতা, পাপ এবং জাগতিক বাধা থেকে সুরক্ষা পান। ২০২৬ সালে এই একাদশীর তারিখ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী সঠিক সময় নির্ধারিত হয়েছে।

তারিখ ও শুভক্ষণ ২০২৬

২০২৬ সালে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হচ্ছে ১৩ এপ্রিল রাত ১টা ১৬ মিনিটে এবং তিথি সমাপ্ত হবে ১৪ এপ্রিল রাত ১টা ৮ মিনিটে। উদয়া তিথি এবং শাস্ত্রীয় বিধি মেনে ব্রত পালনের নির্ঘণ্ট নিচে দেওয়া হলো:

  • একাদশী ব্রত পালন: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার।
  • পূজার শুভ সময়: সকাল ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত।
  • শুভ চৌঘড়িয়া: সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।
  • বর্জনীয় সময় (রাহুকাল): সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।
  • ব্রত পারণের সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৪ মিনিট থেকে ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে।

ব্রত পালনের সঠিক বিধি

বরুথিনী একাদশীর পূর্ণ ফল লাভের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি:

  • শৌচ ও সংযম: দশমী তিথির রাত থেকেই ব্রহ্মচর্য পালন করতে হবে। একাদশীর সকালে কেমিক্যালযুক্ত টুথপেস্ট বা দাঁতন ব্যবহার না করে লেবু বা আমের পাতা দিয়ে মুখ শুদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
  • আধ্যাত্মিক পাঠ: স্নান সেরে মন্দিরে গিয়ে শ্রীবিষ্ণুর পূজা এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করা বা শোনা অত্যন্ত শুভ। সারা দিন ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করতে হবে।
  • রাত্রি জাগরণ: একাদশীর রাতে ঘুমানোর পরিবর্তে ভজন-কীর্তনের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করলে অধিক পুণ্য অর্জিত হয়।

সতর্কবার্তা: এই ৪টি কাজ ভুলেও করবেন না

শাস্ত্র মতে, একাদশীতে কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, আচরণের ওপরও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচের চারটি কাজ এড়িয়ে চলা বাধ্যতামূলক:

১. খাদ্যাভ্যাসে বিধিনিষেধ: এই দিনে অন্ন, মধু, পেঁয়াজ, রসুন এবং আমিষ খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেজড জুস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

২. মানসিক সংযম: উপবাস মানে কেবল পেট খালি রাখা নয়, বরং জিহ্বা ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ। তাই কারো নিন্দা করা, রাগ করা বা মিথ্যে বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. গৃহস্থালি কাজ ও আসক্তি: এই দিনে ঘর ঝাড়ু দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে সূক্ষ্ম জীব বা পিঁপড়ের প্রাণহানির ভয় থাকে। এছাড়া চুল কাটা এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা গ্যাজেটসের আসক্তি থেকেও দূরে থাকা উচিত।

৪. ব্যসন বর্জন: নেশা জাতীয় দ্রব্য বা তামাক সেবন একাদশীর পবিত্রতা নষ্ট করে।

শোক ও বিশেষ পরিস্থিতি

যদি একাদশীর দিনে কোনো আত্মীয়ের মৃত্যু হয়, তবে শাস্ত্র অনুযায়ী ব্রত রেখে তার ফল মৃত ব্যক্তির আত্মার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা উচিত। বিশ্বাস করা হয় যে, এর ফলে বিদেহী আত্মা সদ্গতি লাভ করে।

একঝলকে

  • প্রধান তিথি: ১৩ এপ্রিল ২০২৬।
  • তাৎপর্য: শত্রুভয় ও পাপ থেকে রক্ষা পাওয়া।
  • বর্জনীয়: অন্নাহার, পরনিন্দা, চুল কাটা এবং ঘর ঝাড়ু দেওয়া।
  • পূজ্য দেবতা: ভগবান শ্রীবিষ্ণু।
  • পারণের সময়: ১৪ এপ্রিল সকাল ৬:৫৪ থেকে ৮:৩১।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *