পদত্যাগ না করেই তৃণমূলের প্রার্থী বিজেপি সদস্য পবিত্র কর, বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, পবিত্র কর এখনও বিজেপির টিকিটে জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন। শুভেন্দুর মতে, কোনও প্রকার পদত্যাগ না করেই তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন, যা আইনত বৈধ নয়। বিজেপি প্রার্থীর সাফ বক্তব্য, তিনি চাইলে স্ক্রুটিনির সময়েই আপত্তি জানিয়ে এই মনোনয়ন বাতিল করাতে পারতেন, কিন্তু তিনি ভোট ময়দানেই প্রতিপক্ষকে হারাতে চান।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “একজন ব্যক্তি কীভাবে একই সাথে দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন? উনি বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের পদ্মফুলের সদস্য হয়েও বিধানসভায় তৃণমূলের প্রতীকে লড়ছেন।” শুভেন্দুর দাবি, তিনি স্রেফ রাজনৈতিক সৌজন্য বা অন্য রণকৌশলের কারণে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানাননি, তবে আইনি দিক থেকে পবিত্র করের প্রার্থীপদ যে কোনও মুহূর্তে খারিজ হওয়ার যোগ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন পবিত্র কর। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং ওই দিনই তাঁকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে পবিত্র করের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।