ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে নেপথ্যে কি চিন? ট্রাম্পের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে নেপথ্যে কি চিন? ট্রাম্পের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘর্ষে অবশেষে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে। বুধবার সকালে এই স্বস্তির খবর শোনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানকে যুদ্ধবিরতির টেবিলে আনতে এবং আলোচনার জন্য রাজি করাতে চিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। গত এক মাস ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি মনে করেন তেহরানকে এই সিদ্ধান্তে রাজি করানোর নেপথ্যে বেজিং কাজ করেছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিরতির ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হরমুজ প্রণালী আবারও খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। যদিও এর আগে পাকিস্তান এই সংকট মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল এবং দুই দেশই সেই প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তবে ট্রাম্পের নজরে এখন চিনের কূটনৈতিক প্রভাবই প্রধান হয়ে উঠেছে।

এদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রক বুধবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্ট করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং কূটনৈতিক আলোচনার জন্য চিন ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় ঠিক কতটা বা কী ধরনের প্রভাব তারা খাটিয়েছে, সে বিষয়ে বেজিং কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং কারিগরি দিকগুলি বিবেচনা করে দ্রুত যাতায়াত স্বাভাবিক করা হবে। আপাতত দুই সপ্তাহের এই বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *