সুখী পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মানবিক সুপ্রিম কোর্ট , নাবালিকা অপহরণ ও বিয়ের পকসো মামলা খারিজ

নাবালিকা অপহরণ এবং পরবর্তীকালে যৌন সম্পর্কের ঘটনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবিকতাকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সম্প্রতি একটি পকসো (POCSO) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আইনের মূল লক্ষ্যই হলো সর্বোচ্চ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী বর্তমানে বিবাহিত এবং সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করছেন, সেখানে কঠোর দণ্ড একটি সাজানো পরিবারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও উচ্চ আদালতের অবস্থান
ঘটনাটি শুরু হয় ২০২০ সালে, যখন এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিখোঁজ ডায়েরি ও অপহরণের মামলা করা হয়। যেহেতু মেয়েটি তখন নাবালিকা ছিল, তাই পকসো আইনের ধারা অনুযায়ী নিম্ন আদালত বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলাটি বাতিলের আবেদন নিয়ে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত: কিশোরীটি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আলাদা হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানান যে, তাঁরা স্বেচ্ছায় একে অপরকে বেছে নিয়েছেন।
- অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার: বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক ওই নারী স্পষ্ট জানান যে, তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং তিনি নিজের ইচ্ছায় প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন।
- সংসার ও সন্তান: ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর তাঁরা আইনত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে।
আদালত মনে করে, এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে শাস্তি দিলে আদতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি সাজানো সংসার ভেঙে দেওয়া উচিত নয় বলেই মত দেয় বেঞ্চ।
আইনি জটিলতা বনাম সামাজিক বাস্তবতা
পকসো আইনের কঠোরতা নাবালিকাদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও, অনেক সময় দেখা যায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে একটি বার্তাই দিয়েছে যে, যান্ত্রিকভাবে আইন প্রয়োগ না করে বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের স্থিতিশীলতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার চেয়ে একটি পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন বিচারপতিরা।
একঝলকে
- ২০২০ সালে ১৭ বছরের কিশোরীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে মামলা শুরু হয়।
- উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট মামলা খারিজ করতে অস্বীকার করলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিকটি বিবেচনা করে।
- অভিযুক্ত ও কিশোরী বর্তমানে বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা।
- নিজেদের হলফনামায় তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
- পরিবারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শীর্ষ আদালত পকসো মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে।