না বোমা, না মিসাইল; নিজেদের তেলেই ডুববে তেহরান? ট্রাম্পের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ডিকোড!

ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আড়ালে ইরানকে কাবু করতে এক নিঃশব্দ অথচ ভয়ঙ্কর রণকৌশল সাজিয়েছে ওয়াশিংটন। কোনো বোমা বা মিসাইল ছাড়াই তেহরানকে নতজানু করতে দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড তথা জ্বালানি তেলকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক বার্তায় স্পষ্ট যে, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সরছে না। বিশেষ করে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র খাগ আইল্যান্ডকে ঘিরে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি রাখা হয়েছে, যার ফলে দেশটি না পারছে তেল রপ্তানি করতে, না পারছে বিদেশ থেকে জরুরি পণ্য আমদানি করতে।
উৎপাদন ও মজুতের মহাসংকট
ইরানের সামনে এখন শাঁখের করাত দশা। ভূগর্ভস্থ ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের জটিলতার কারণে তেলকূপগুলো একবার বন্ধ করলে তা পুনরায় চালু করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ এবং ঝক্কিপূর্ণ; এমনকি এতে খনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ইরান উৎপাদন বন্ধ করতে পারছে না, অথচ রপ্তানি বন্ধ থাকায় মজুত করার জায়গা ফুরিয়ে আসছে। দেশটির স্থলভাগের মজুত সক্ষমতার ৬০ শতাংশই ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল বাড়তি তেল যেভাবে জমা হচ্ছে, তাতে খুব দ্রুতই ইরানের সমস্ত স্টোরেজ ট্যাংক কানায় কানায় ভরে উঠবে।
আমেরিকার প্রচ্ছন্ন বিজয় কৌশল
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা অথবা তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়া। তেলের টাকা না আসায় ইরানের সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-র অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশে খাদ্যসংকট ঘনীভূত হচ্ছে। আমেরিকার এই ‘সাইলেন্ট ব্লকেড’ বা নিঃশব্দ অবরোধ ইরানকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে তাদের হয় তেল উৎপাদন বন্ধ করে চিরতরে খনিগুলো নষ্ট করতে হবে, নয়তো হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে হবে। রক্তপাতহীন এই অর্থনৈতিক যুদ্ধই এখন মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে ট্রাম্পের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে আমেরিকা।
- খাগ আইল্যান্ড অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হলেও প্রযুক্তিগত কারণে উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
- মজুত ক্ষমতা শেষ হয়ে আসায় উৎপাদিত তেল রাখা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে তেহরান।
- তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ায় ইরানের সামরিক ফান্ডিং ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।