স্তব্ধ হবে বিশ্ব, ধসে পড়বে অর্থনীতি! সমুদ্রতলের কেবল কাটা পড়ার আশঙ্কায় ইজরায়েল-ইরাক দ্বন্দ্বে বড় হুঁশিয়ারি ইরানের

হোরমুজ প্রণালীর সমুদ্রগর্ভে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ডেটা কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম সতর্কতা জারি করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাবশত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ফাইবার-অপটিক কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পারস্য উপসাগরসহ এশিয়া ও ইউরোপের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। বিশ্বের প্রায় ১৭ থেকে ৩০ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক এই রুট দিয়েই পরিচালিত হয়।
অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল প্রভাব
বিশ্বের তথাকথিত ‘ডিজিটাল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত এই রুটটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো টেক জায়ান্টদের ক্লাউড পরিষেবা ও বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেন থমকে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রগর্ভের এই নেটওয়ার্কটি বিচ্ছিন্ন হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধেই সৌদি আরব উপকূলে কেবল স্থাপনের কাজে যুক্ত একটি ফরাসি জাহাজ আটকা পড়েছে এবং মেটা (ফেসবুক) তাদের কেবল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
সংকটে পড়তে পারে ভারত
বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভারতের ওপর এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। কেবলগুলো বিচ্ছিন্ন হলে ভারতে ইন্টারনেটের গতি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইউপিআই (UPI)-এর মতো ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং আইটি পরিষেবাগুলো স্থবির হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ভারতের ক্রমবর্ধমান এআই এবং ডিজিটাল অর্থনীতি বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীর সমুদ্রগর্ভস্থ ডেটা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ ইরানের।
- এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্রাফিক বিপর্যয়ের মুখে।
- ডিজিটাল পেমেন্ট, ক্লাউড সার্ভিস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের পূর্বাভাস।
- ভারতের আইটি খাত ও ডিজিটাল লেনদেনে ভয়াবহ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।