ভোটের সুযোগে কুয়ে নদীর বাঁধ কেটে মাটি পাচার রুখল স্থানীয় বাসিন্দারা

ভোটের সুযোগে কুয়ে নদীর বাঁধ কেটে মাটি পাচার রুখল স্থানীয় বাসিন্দারা

নির্বাচনের ডামাডোলে যখন প্রশাসন ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড়ঞায় কুয়ে নদীর বাঁধ কেটে মাটি পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার বড়ঞা ব্লকের বৈদ্যনাথপুর সংলগ্ন মাঠ কলাই এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়োচিত প্রতিবাদের ফলে আপাতত মাটি কাটা বন্ধ করেছে প্রশাসন।

প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে সক্রিয় মাফিয়া চক্র

বর্তমানে ভোটকে কেন্দ্র করে কান্দি মহকুমা প্রশাসনের ব্যস্ততা তুঙ্গে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই প্রশাসনিক শৈথিল্যের সুযোগ নিয়ে ১১৬ এ জাতীয় সড়ক নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের লোকজন প্রকাশ্য দিবালোকে নদীর বাঁধ কাটা শুরু করে। অন্তত ১০টি ট্রাক্টরে করে এই মাটি পাচার করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। এতদিন পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি থেকে মাটি নেওয়া হলেও এবার সরাসরি নদী রক্ষা বাঁধের ওপর আঘাত হানায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও সম্ভাব্য বিপর্যয়

কুয়ে নদীর ওই নির্জন অংশে আর্থ মুভার দিয়ে মাটি কাটার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে জড়ো হন স্থানীয় চাষিরা। তাদের আশঙ্কা, বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লে বর্ষার মরসুমে বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

  • বন্যা পরিস্থিতি: বাঁধ কেটে ফেলায় বর্ষার জল সরাসরি গ্রামে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
  • ফসলের ক্ষয়ক্ষতি: কৃষকদের দাবি, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই এলাকার কয়েক হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে যাবে।
  • গ্রামের নিরাপত্তা: স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ারুল শেখ ও হিরামুন মির্জাদের মতে, বাঁধের এই ক্ষতি অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলবে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের আশ্বাস

ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি মহকুমা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেচ দপ্তরের আধিকারিক সৌমিক কুণ্ডু নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে মাটি কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ঠিকাদার এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *