নদীয়া দক্ষিণে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার জেরে ক্ষুব্ধ মতুয়া সমাজ

নদীয়া দক্ষিণে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার জেরে ক্ষুব্ধ মতুয়া সমাজ

নদীয়া জেলার ভোটার তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁটের জেরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নদীয়া দক্ষিণের ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, সমগ্র জেলায় যত ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে, তার ৫৫ শতাংশই এই দক্ষিণ প্রান্তের। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই গণহারে নাম বাদ পড়ার ঘটনা এক বড়সড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিপাকে মতুয়া গড়: পরিসংখ্যানের চিত্র

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মতুয়া ভোটারদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো। রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় সবথেকে বেশি ২০ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া রানাঘাট দক্ষিণে ১৭ হাজার ২০০ এবং কৃষ্ণগঞ্জে ১৫ হাজার ভোটারের নাম তালিকায় নেই। এই তিনটি বিধানসভাতেই মতুয়া ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। অন্যান্য কেন্দ্রের মধ্যে হরিণঘাটা, শান্তিপুর, চাকদহ ও কল্যাণী বিধানসভাতেও কয়েক হাজার ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে।

অস্তিত্ব রক্ষায় তৃণমূলের তৎপরতা

এই গণহারে নাম বাদ পড়াকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিপুর ও চাকদহের জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দল থেকে আইনি সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা করা হবে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতুয়াদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে তাঁদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। একই পরিবারের ১২-১৩ জনের নাম বাদ পড়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিগত নির্বাচনে যে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভোটব্যাঙ্কেই ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃত্বদের দাবি, ৫০ বছর ধরে এ দেশে বসবাস করার পরেও তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। হরিণঘাটা ও কৃষ্ণগঞ্জের মতো এলাকায় মতুয়া ভোটাররা এখন সরাসরি বর্তমান সরকারের শরণাপন্ন হচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাধিকার হারানোর ভয় আগামী নির্বাচনে ইভিএমে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নদীয়া উত্তরের চিত্র

দক্ষিণের পাশাপাশি নদীয়া উত্তর প্রান্তেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ২১ হাজার ৭৩০ জন, কালীগঞ্জে ১২ হাজার ৬৩৯ জন এবং পলাশিপাড়ায় ১২ হাজার ৬১৩ জনের নাম বাতিল হয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভাতেও প্রায় ২০ হাজার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *