বিজেপির সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ‘ডিল’! ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, কী সাফাই হুমায়ুনের?

বিজেপির সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ‘ডিল’! ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, কী সাফাই হুমায়ুনের?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ালেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ‘ডিল’ করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বিতর্কের সূত্রপাত ও ভাইরাল ভিডিয়ো

বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে, যেখানে হুমায়ুন কবীরকে জনৈক এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, ওই কথোপকথনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার চুক্তির উল্লেখ রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মুসলিম ভোট ভাগ করার লক্ষ্যেই তিনি পৃথক দল গড়ে প্রার্থী দিচ্ছেন এবং নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলে তিনি তাদের সমর্থন করবেন। তবে এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তৃণমূলের অভিযোগ ও তদন্তের দাবি

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের দাবি, হুমায়ুন কবীর ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাত এখন জনসমক্ষে। এই ঘটনার অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নির্বাচনের মুখে এই ধরণের ‘স্টিং অপারেশন’ বা গোপন ভিডিয়ো ফাঁস শাসকদলকে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও আইনি হুমকি

সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

  • AI প্রযুক্তির ব্যবহার: হুমায়ুন কবীরের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে জাল ভিডিয়ো তৈরি করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
  • বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের কথা অস্বীকার: তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ২০১৯ সালের পর বিজেপির কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী বা শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনো ছবি বা প্রমাণ নেই বলেও তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
  • মানহানির মামলা: যে সকল তৃণমূল নেতা সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে তৃণমূল যেমন একে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে প্রচার করছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে তুলে ধরে পাল্টা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন।

একঝলকে

  • বিজেপির সঙ্গে গোপন চুক্তির অভিযোগে বিদ্ধ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
  • ভাইরাল ভিডিয়োতে কোটি টাকার ‘ডিল’ ও বিজেপিকে সমর্থনের কথা বলা হয়েছে বলে দাবি।
  • তৃণমূলের করা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন।
  • ভিডিয়োটিকে AI দিয়ে তৈরি ‘ফেক’ দাবি করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি।
  • ২০১৯ সালের পর প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি হুমায়ুনের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *