দামোদরের চরে ভাঙছে বিশ্বাসের সেতু, আসানসোল দক্ষিণে উন্নয়নের লড়াই বনাম ভোটার তালিকায় কাঁচি

দামোদরের চরে ভাঙছে বিশ্বাসের সেতু, আসানসোল দক্ষিণে উন্নয়নের লড়াই বনাম ভোটার তালিকায় কাঁচি

পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার সংযোগস্থলে বার্নপুরের নেহরু পার্ক সংলগ্ন দামোদর নদের ওপর কেবল একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো আজ হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে এই সাঁকোটি এখন আর শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং বঞ্চনা ও ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ‘সেতু নেই তো ভোট নেই’—এই স্লোগানে সরব এলাকাবাসী দুই রাজনৈতিক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল এই বঞ্চনার দায় রাজ্যের ওপর চাপালেও, তৃণমূলের দাবি কেন্দ্রের সদিচ্ছার অভাবেই থমকে আছে স্থায়ী সেতুর কাজ।

রাজনৈতিক সমীকরণে এবারের বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ৪১ হাজার নাম বাদ পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল একে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে দেখলেও বিজেপি একে ভোটার তালিকার পদ্ধতিগত পরিচ্ছন্নতা বলে দাবি করছে। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং শিল্পাঞ্চলের হিন্দিভাষী ভোটারদের বড় প্রভাব রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল বনাম নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের অভাব—মহিলা ভোটারদের মনে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পাবে, তার ওপরেই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়।

তৃণমূল এবার তাদের পুরনো ভরসা ও আসানসোলের ‘ঘরের ছেলে’ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। অন্যদিকে, বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল তাঁর বিদায়ী বিধায়ক পদের কাজের খতিয়ান ও রাজ্যের দুর্নীতির ইস্যুকে হাতিয়ার করে লড়াইয়ে টিকে থাকতে চাইছেন। এর মাঝে বাম প্রার্থী শিল্পী হালদার দুর্নীতিমুক্ত বিকল্প ও কর্মসংস্থানের ডাক দিয়ে মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দামোদরের পাড়ের মানুষের সেতুর দাবি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ ইভিএমে কী প্রতিফলন ঘটায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শিল্পাঞ্চলের বাতাসে এখন উন্নয়নের হিসেব মেলাবার পালা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *