বুথে গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে? ঘাবড়াবেন না, রইল প্রতিকারের উপায়!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও রিগিং বা ছাপ্পা ভোটের আশঙ্কা জনমনে থেকেই যায়। অনেক সময় দেখা যায়, ভোটার বুথে গিয়ে জানতে পারেন তার ভোটটি ইতিমধ্যে অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না গিয়ে নিয়ম মেনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
টেন্ডার ভোট কী এবং কেন প্রয়োজন
যদি কোনো ভোটার বুথে গিয়ে দেখেন তার ভোট হয়ে গিয়েছে, তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ‘টেন্ডার ভোট’ বা ‘নিবন্ধিত ভোট’ দিতে পারেন। এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যা একজন প্রকৃত ভোটারের অধিকার রক্ষা করে। যখন কেউ আপনার পরিচয় জাল করে ভোট দেয়, তখন এই বিকল্প পদ্ধতিতে আপনি নিজের রায় জানাতে পারেন। এটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে (EVM) দেওয়া হয় না, বরং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নেওয়া হয়।
ভোট দিতে যা করবেন
ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিলে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাকে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে:
- প্রথমেই বুথে উপস্থিত প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করুন।
- নিজের সঠিক পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড বা কমিশন অনুমোদিত নথি) প্রদর্শন করুন।
- প্রিসাইডিং অফিসার আপনার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হলে আপনাকে একটি ‘টেন্ডার ব্যালট পেপার’ দেওয়া হবে।
- ব্যালট পেপারে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেটি নির্দিষ্ট খামে ভরে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ভোট মূল্যবান। ছাপ্পা ভোটের কারণে কোনো নাগরিক যেন বঞ্চিত না হন, তাই কমিশন এই বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে। টেন্ডার ভোট সরাসরি ইভিএমে যোগ না হলেও, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি জটিলতা বা গণনায় বিবাদের ক্ষেত্রে এই ব্যালট পেপারগুলোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সচেতনতার অভাবে অনেক ভোটারই এই সুযোগ না নিয়ে বুথ থেকে ফিরে আসেন, যা প্রকৃতপক্ষে জালিয়াতদের সুবিধা করে দেয়।
২০২৬ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ১৭টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে এবং দ্বিতীয় দফায় ৭টি জেলার ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। কমিশন জানিয়েছে, জালিয়াতি রুখতে বুথ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
একঝলকে
- আপনার ভোট অন্য কেউ দিলেও ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।
- প্রিসাইডিং অফিসারকে জানিয়ে ‘টেন্ডার ভোট’ দেওয়ার দাবি জানান।
- ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।
- এই ভোটটি আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনে গণনায় ব্যবহৃত হয়।
- ভোট জাল রুখতে এবং নিজের অধিকার রক্ষায় এটি একটি শক্তিশালী আইনি অস্ত্র।