ইরানকে বাগে আনতে ট্রাম্পের হাতিয়ার ভিয়েতনাম যুদ্ধের ম্যাডম্যান থিওরি

ইরানকে বাগে আনতে ট্রাম্পের হাতিয়ার ভিয়েতনাম যুদ্ধের ম্যাডম্যান থিওরি

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাব ও হুমকি থামছে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে চাপে রাখতে ট্রাম্প আদতে ঐতিহাসিক ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা উন্মাদ তত্ত্ব প্রয়োগ করছেন। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থেকে শুরু করে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি—সবই এই কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত শত্রুকে চরম আতঙ্কে রেখে নিজের শর্ত মানতে বাধ্য করাই এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের মূল লক্ষ্য।

ঐতিহাসিক এই তত্ত্বের শিকড় নিহিত রয়েছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতিহাসে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রথম এই তত্ত্বটি সামনে এনেছিলেন। এই নীতির মূল কথা হলো, প্রতিপক্ষের সামনে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যেন তারা মনে করে সংশ্লিষ্ট নেতা যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত বা পরমাণু হামলা চালিয়ে বসতে পারেন। নিজেকে ‘অপ্রকৃতিস্থ’ বা ‘উন্মাদ’ হিসেবে তুলে ধরে শত্রুর মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়াই ছিল নিক্সনের কৌশল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পও ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়ে সেই একই পথে হাঁটছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবেই হুমকির তীব্রতা বজায় রেখেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজের মতে, ট্রাম্প এই ধরনের আচরণকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছেন। ট্রাম্পের লাগাতার হুমকির ফলেই শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনায় বসতে এবং যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে এই তত্ত্বের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক জুলি নরম্যান সতর্ক করে জানিয়েছেন, বারবার একই রণকৌশল ব্যবহার করলে তার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ইরানের মতো অনমনীয় প্রশাসনের ক্ষেত্রে এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে, যা দেশটিকে আরও বেপরোয়া করে তোলার ঝুঁকি রাখে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *