পোস্ট অফিসে কত দিনে টাকা ডবল হয়? জেনে নিন দ্রুত রিটার্ন দেওয়া সেরা ২ স্কিম!

নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত মুনাফার জন্য পোস্ট অফিস দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। বিশেষ করে যারা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়াতে চান, তাদের জন্য সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত এই সঞ্চয় প্রকল্পগুলো অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে পোস্ট অফিসের দুটি নির্দিষ্ট স্কিম বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যার একটিতে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আসল টাকা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কিষাণ বিকাশ পত্র বা কেভিপি (KVP)
দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য কিষাণ বিকাশ পত্র একটি আদর্শ বিকল্প। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানে বিনিয়োগ করা টাকা ৯ বছর ৫ মাস বা ১link১৩ মাসে সম্পূর্ণ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
- সুদ গণনা পদ্ধতি: এখানে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, প্রতি বছর অর্জিত সুদ আসলের সাথে যুক্ত হয় এবং পরের বছর বর্ধিত ওই টাকার ওপর পুনরায় সুদ পাওয়া যায়।
- বিনিয়োগের সীমা: এই স্কিমে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা থেকে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।
- প্রয়োজনীয় নথি: ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্যান (PAN) কার্ড বাধ্যতামূলক এবং ১০ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে আয়ের উৎস বা ইনকাম প্রুফ জমা দিতে হয়।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি (NSC)
নিরাপদ রিটার্নের পাশাপাশি যারা আয়কর বাঁচাতে চান, তাদের জন্য ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি একটি চমৎকার মাধ্যম। যদিও এটি মূলত ৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড সমৃদ্ধ একটি স্কিম, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে এখানেও দীর্ঘ মেয়াদে বড় অংকের তহবিল গঠন সম্ভব।
- সুদের হার ও মেয়াদ: বর্তমানে এনএসসি-তে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর। তবে মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করলে প্রায় ৯ বছর ৩ মাসের মাথায় বিনিয়োগ করা অর্থ দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
- কর ছাড়ের সুবিধা: আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী, এনএসসি-তে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ছাড় পাওয়া যায়।
- বিনিয়োগের নিয়ম: সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই।
কেন পোস্ট অফিসের স্কিম বেছে নেবেন?
পোস্ট অফিসের এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলো মূলত মধ্যবিত্ত এবং ঝুঁকিহীন বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখে সাজানো। বেসরকারি ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এখানে ঝুঁকির হার শূন্য কারণ এর পেছনে সরাসরি ভারত সরকারের গ্যারান্টি থাকে। এছাড়া চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা থাকায় দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগকারীর মূলধন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
একঝলকে
- টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সময়: কিষাণ বিকাশ পত্রে ১১৩ মাসে টাকা ডাবল হয়।
- সর্বোচ্চ সুদের হার: এনএসসি-তে বর্তমানে ৭.৭ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদ পাওয়া যাচ্ছে।
- বিনিয়োগের নিরাপত্তা: উভয় প্রকল্পই ভারত সরকার দ্বারা সুরক্ষিত।
- ট্যাক্স বেনিফিট: এনএসসি-তে বিনিয়োগ করলে আয়করে ছাড় পাওয়া যায়।
- ন্যূনতম বিনিয়োগ: মাত্র ১,০০০ টাকা থেকেই সঞ্চয় শুরু করা সম্ভব।