‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’ শাড়ির পাড়ে বিশেষ বার্তা দিয়ে স্মৃতি ইরানির উপস্থিতিতে মনোনয়ন পেশ অভয়ার মায়ের

জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। এদিন ব্যারাকপুরের প্রশাসনিক ভবনে তাঁর মনোনয়ন পেশের সময় সঙ্গী ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে জলহাটির জিটি রোডে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান। এর আগেও রত্না দেবনাথের শাড়ির পাড়ে ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’ লেখাটি নজর কেড়েছিল, এবার তাঁর শাড়িতে দেখা গেল ‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’ বার্তাটি।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য ৯ তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে এক আবেগঘন কারণ জানিয়েছেন রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, জীবনের এক ৯ তারিখেই তাঁর কন্যা তাঁর কোলে এসেছিল, আবার অন্য এক ৯ তারিখেই তাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিজের যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি জয়ী হওয়া মানে জলহাটির সাধারণ মানুষের জয়। মূলত নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা বিধানসভায় তুলে ধরতেই তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচনের ময়দানে আরজি করের আবেগকে সঙ্গী করেই যে তিনি এগোতে চাইছেন, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে ও পোশাকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের সমর্থনে স্মৃতি ইরানি বলেন, তিনি কেবল দলের প্রার্থী নন, বরং বাংলার প্রত্যেক লাঞ্ছিত মহিলার প্রতীক। স্মৃতির এই বক্তব্যের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে দেখা যায় অভয়ার মাকে। স্মৃতি আরও দাবি করেন, রত্না দেবনাথের নেতৃত্বেই বাংলা আগামী দিনে সঠিক বিচার পাবে। এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে বর্তমান শাসক দলকে রাজ্য থেকে উৎখাত করার ডাক দেন বিজেপি প্রার্থী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাড়ির পাড়ে বিশেষ বার্তা লিখে অভিনব কায়দায় প্রচার চালানো রত্না দেবনাথের অন্যতম কৌশল। এর আগে এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলেও এবারও তিনি সেই পথেই হাঁটলেন। জলহাটি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে নারী সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে এই প্রচার কৌশল এবং আবেগ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।