তৃণমূল করলে মাঠ দখল বরদাস্ত নয়, জলহাটির সভায় কাউন্সিলরদের কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

আসন্ন চব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি। বৃহস্পতিবার উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের সমর্থনে জনসভা করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মঞ্চ থেকেই দলের জনপ্রতিনিধিদের কঠোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তৃণমূল করতে হলে কোনোভাবেই মাঠ দখল বা বেআইনি নির্মাণকাজ চালানো যাবে না। অমরাবতীর মাঠ দখলের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সবুজ ধ্বংস করে দলের নাম ভাঙানো সহ্য করা হবে না।
গত বছর সোদপুরের অমরাবতীর মাঠের একাংশ দখলের অভিযোগে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল এলাকায়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছতেই তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলহাটি পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই বিতর্কিত ঘটনার রেশ যে আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তা আঁচ করেই এদিন কড়া ভাষায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের সতর্ক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানরা শুনে রাখুন, দল করতে হলে সবুজ ধ্বংস বা মাঠ দখল করা চলবে না। আমি কলকাতায় থাকলেও রাজ্যের কোথায় কী হচ্ছে, সব খবর রাখি।” তিনি আরও যোগ করেন, কোনো ফাঁকা জায়গা বা মাঠ দখল করে যখন-তখন নির্মাণকাজ শুরু করার প্রবণতা তাঁর নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই তিনি ‘সবুজ বাঁচানোর’ ওপর বিশেষ জোর দেন।
পেশাদার সাংবাদিকতার নিরিখে জলহাটির এই লড়াই এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং অন্যদিকে আর জি কর কাণ্ডের নিগৃহীতা চিকিৎসকের মায়ের গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হওয়া এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের রণকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।