PoK সীমান্তে ড্রাগনের নয়া ফাঁদ! ভারতের রক্তচাপ বাড়িয়ে শিনজিয়াংয়ে তৈরি হলো নয়া জেলা ‘সেনলিং’

PoK সীমান্তে ড্রাগনের নয়া ফাঁদ! ভারতের রক্তচাপ বাড়িয়ে শিনজিয়াংয়ে তৈরি হলো নয়া জেলা ‘সেনলিং’

লাদাখ থেকে আফগানিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত চিনের আগ্রাসী মনোভাব আরও একবার স্পষ্ট হলো। এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আফগান সীমান্তের ঠিক কোল ঘেঁষে ‘সেনলিং’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক জেলা তৈরি করেছে বেজিং। গত ২৬ মার্চ সরকারিভাবে এই নতুন জেলার ঘোষণা করা হয়। শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কাশগড় প্রিফেকচারের অধীনে থাকা এই জেলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কেন বিতর্কিত এই সেনলিং জেলা

সেনলিং জেলার ভৌগোলিক অবস্থান সরাসরি ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারাকোরাম রেঞ্জের অত্যন্ত কাছে এবং বিতর্কিত ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ বা সিপেক (CPEC)-এর সমান্তরালে অবস্থিত। প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই সিপেক প্রকল্পটি ভারতের সার্বভৌমত্ব লঙ্গন করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার শুরু থেকেই কড়া বিরোধিতা করে আসছে দিল্লি।

চিনের দ্বিমুখী রণকৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, এই জেলা গঠনের নেপথ্যে চিনের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:

  • সামরিক আধিপত্য: ওয়াখান করিডোর এবং কারাকোরাম পর্বতশৃঙ্গের কাছে নিজেদের সামরিক ও প্রশাসনিক দখল মজবুত করা।
  • অনুপ্রবেশ রোধ: শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করা।

গত এক বছরে এটি চিনের তৈরি তৃতীয় জেলা। এর আগে হেআন এবং হেকাং নামে আরও দুটি জেলা তৈরি করেছিল লাল ফৌজ।

ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ মত

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল নয়। লিন মিনওয়াং এবং ইউন সানের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থানের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাস বদলে দিতেই চিন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থায়ী বসতি স্থাপন করে জমি দখলের পুরোনো কৌশলীই যেন নতুন করে ‘সেনলিং’ জেলার মাধ্যমে ফিরে আসছে।

যদিও বেজিং দাবি করেছে যে জাতিগত উত্তেজনা প্রশমন এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত, কিন্তু কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এর আসল লক্ষ্য ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ভারতের আকসাই চিন সংলগ্ন আগের জেলাগুলো নিয়েও দিল্লি আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, তাই এবারের এই তৎপরতা সাউথ ব্লকের রক্তচাপ বাড়াতে যথেষ্ট।

একঝলকে

  • নতুন জেলা: সেনলিং (শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অধীনে)।
  • অবস্থান: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আফগান সীমান্তের সন্নিকটে।
  • কৌশলগত গুরুত্ব: কারাকোরাম রেঞ্জ ও সিপেক (CPEC) প্রকল্পের পাশে অবস্থিত।
  • উদ্বেগের কারণ: ভারতের সীমান্ত নজরদারি ও সার্বভৌমত্বের ওপর সম্ভাব্য হুমকি।
  • চিনের পদক্ষেপ: গত এক বছরে তিনটি নতুন সীমান্ত জেলা তৈরি করেছে বেজিং।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *