মাঝ সমুদ্রে বন্দি ৬৫০ জাহাজ! ট্রাম্পের ‘লোহার মুঠোয়’ কি তবে শেষ হয়ে যাবে জ্বালানি তেল?

মাঝ সমুদ্রে বন্দি ৬৫০ জাহাজ! ট্রাম্পের ‘লোহার মুঠোয়’ কি তবে শেষ হয়ে যাবে জ্বালানি তেল?

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই পথে বাণিজ্যিক চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন রণতরীর পাহারা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ওমান উপসাগরীয় উপকূলে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েন করেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই এই রুট ব্যবহার করে ইরানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। আগে ইরান কেবল তাদের পছন্দের দেশের জাহাজগুলোকে এই পথে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছিল, তবে মার্কিন হস্তক্ষেপে এখন পুরো পথটিই স্থবির হয়ে পড়েছে।

মাঝসমুদ্রে আটকা শত শত জাহাজ

আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারির মুখে গত ৪৫ দিন ধরে প্রায় ৬৫০টিরও বেশি মালবাহী ও জ্বালানি তেলের জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে আছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংকট নিরসনে চার দেশের দৌত্য

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী চারটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে:

  • রাশিয়া: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন। ট্রাম্প ও ইরান—উভয় পক্ষের সাথেই সুসম্পর্ক থাকায় রাশিয়ার মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • তুরস্ক: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাক্কান ফিদান পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে আমেরিকার প্রস্তাবগুলো বিবেচনার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।
  • ইসরায়েল ও লেবানন: দীর্ঘ সময় পর ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। এটি পরোক্ষভাবে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ফ্রান্স: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেনের সাথে মিলে তিনি সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে আমেরিকা এবং ইরান—কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি দৃঢ় আন্তর্জাতিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই পথে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এখন এই চার দেশের কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে তাকিয়ে আছে।

একঝলকে

  • হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, অবরুদ্ধ নৌপথ।
  • বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে মাঝসমুদ্রে বন্দি ৬৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজ।
  • ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা চরমে।
  • সংকট কাটাতে রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স এবং ইসরায়েল-লেবাননের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *