বিশ্বস্তই যখন বিষধর! গয়নার দোকানে ‘তিল তিল’ করে ২৫ ভরি সোনা সাবাড় করল কর্মচারী

বিশ্বস্তই যখন বিষধর! গয়নার দোকানে ‘তিল তিল’ করে ২৫ ভরি সোনা সাবাড় করল কর্মচারী

চেন্নাইয়ের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা টি নগরের একটি নামী গহনার দোকানে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এক কর্মচারী মালিকপক্ষের অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কয়েক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ সোনা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে ঘরের লোকের চুরির ধরণ ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অডিট রিপোর্টে ধরা পড়ল আসল রহস্য

প্রতিদিনের মতো দোকানের লেনদেন শেষে স্টক যাচাই বা অডিট করার সময় হিসেবে বড় ধরনের গরমিল নজরে আসে মালিকপক্ষের। কড়া সিসিটিভি নজরদারি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দেখা যায় প্রায় ২৫ ভরি ওজনের সোনার গহনা গায়েব। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় দোকান কর্তৃপক্ষ। তেনামপেট থানার পুলিশ তদন্তে নেমে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে এবং শিবদেব (৩২) নামে এক কর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক বলে শনাক্ত করে।

অভিনব চুরির কৌশল এবং বিশ্বাসভঙ্গ

পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্ত শিবদেব তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। কোলাত্তুর এলাকার বাসিন্দা শিবদেব ওই প্রতিষ্ঠানে গহনা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ‘কাস্টোডিয়ান’ হিসেবে কাজ করতেন। সমস্ত গহনার দায়িত্ব তার ওপর থাকায় তিনি সহজেই নজরদারির বাইরে থাকতেন। তার চুরির পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত ধীর গতির ও পরিকল্পিত:

  • একবারে বড় কোনো চুরির বদলে তিনি প্রতিদিন একটি বা দুটি করে ছোট গহনা সরিয়ে ফেলতেন।
  • মালিকপক্ষ তাকে দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বাস করায় তার ব্যাগে বা শরীরে সাধারণ তল্লাশি করা হতো না।
  • এভাবে কয়েক মাস ধরে তিনি ধাপে ধাপে মোট ২৫ ভরি সোনা পাচার করেন।

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা

আটকের পর শিবদেব প্রথমে বেশ চতুরতার পরিচয় দেন। তিনি চুরি করা গহনার মধ্যে ১০ ভরি পুলিশকে ফেরত দিয়ে নিজেকে শোধরানোর নাটক করেন এবং বাকি গহনা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে তিনি পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে পুনরায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বাকি গহনা উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কেবল প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বা সিসিটিভি দিয়ে চুরি ঠেকানো সম্ভব নয় যদি ভেতরের কর্মীরা অসাধু হয়। টি নগরের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন কাণ্ড ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিশ্বস্ত কর্মীর এমন ‘স্লো পয়জন’ এর মতো চুরি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

একঝলকে

  • স্থান: টি নগর, চেন্নাই।
  • অভিযুক্ত: শিবদেব (৩২), জুয়েলারি কাস্টোডিয়ান।
  • চুরির পরিমাণ: ২৫ ভরি সোনার গহনা।
  • পদ্ধতি: প্রতিদিন অল্প অল্প করে গহনা সরানো।
  • বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার এবং ১০ ভরি সোনা উদ্ধার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *