আম্বানির বাড়িতে রুটি বানিয়ে কোটিপতি! বেতন শুনে চোখ কপালে উঠবে তাবড় ইঞ্জিনিয়ারদেরও

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ অম্বানীর জীবনধারা বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয়। মুম্বইয়ে তাঁর বিলাসবহুল বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-কে আধুনিক রাজপ্রাসাদ বললেও ভুল হবে না। তবে শুধু অট্টালিকা নয়, সেখানে কর্মরত কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিশেষ করে প্রধান রাঁধুনি বা শেফদের আকাশছোঁয়া বেতন বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অম্বানী পরিবারে যারা খাবার তৈরি করেন, তাঁদের মাসিক উপার্জন অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বা নামী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের বেতনের সমান।
রাঁধুনি নাকি করপোরেট পেশাদার
মুকেশ অম্বানী এবং নীতা অম্বানী ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে বিশ্বাসী। নিরামিষাশী এই পরিবারটি বাড়িতে তৈরি টাটকা এবং বিশুদ্ধ খাবার পছন্দ করেন। তবে এই সাধারণ খাবার তৈরির নেপথ্যে কাজ করেন আন্তর্জাতিক মানের পেশাদাররা।
- লক্ষাধিক বেতন: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অম্বানী পরিবারের প্রধান শেফরা মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পান। অর্থাৎ বছরে তাঁদের আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা।
- অতিরিক্ত সুবিধা: শুধু বেতনই নয়, এই কর্মীদের জন্য রয়েছে বিমা সুবিধা এবং তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার খরচ। করপোরেট সেক্টরের মতো সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তাঁরা উপভোগ করেন।
প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন
অ্যান্টিলিয়াতে প্রতিদিন প্রায় ৪,০০০ রুটি তৈরি করা হয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ রুটি হাতে নয়, বরং তৈরি হয় অত্যাধুনিক রোটি মেকিং মেশিনের সাহায্যে। এই বিশাল আয়োজন কেবল অম্বানী পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, সেখানে কর্মরত প্রায় ৬০০ জন কর্মীর খাবারের জন্যও করা হয়।
এখানে যারা রান্নার দায়িত্ব পালন করেন, তারা সাধারণ রাঁধুনি নন। তাঁদের বেশিরভাগই হোটেল ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রিধারী এবং আন্তর্জাতিক মানের নামী হোটেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। খাদ্যের গুণমান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁরা অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করেন।
একটি পুরো তলা বরাদ্দ রান্নাঘরের জন্য
২৭ তলা বিশিষ্ট এই প্রাসাদে রান্নার কাজের জন্য একটি বিশেষ ফ্লোর বা তলা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে একটি করপোরেট অফিসের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল রান্নাঘর। মুকেশ অম্বানী তাঁর সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের জন্য পরিচিত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ছুটির দিনে ইডলি সম্বর তাঁর প্রিয় খাবার। ১৫ হাজার কোটি টাকার বাড়িতে বসবাসকারী এই পরিবারটি তাঁদের কর্মীদের বেতন ও সম্মানের ক্ষেত্রেও আভিজাত্য বজায় রেখেছেন।
একঝলকে
- অম্বানী পরিবারের প্রধান শেফদের মাসিক বেতন প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
- বছরে তাঁদের মোট উপার্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা।
- বেতনের পাশাপাশি বিমা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করে কর্তৃপক্ষ।
- অ্যান্টিলিয়ায় কর্মরত ৬০০ জন কর্মীর জন্য প্রতিদিন রান্না করা হয়।
- অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন প্রায় ৪,০০০ রুটি প্রস্তুত করা হয়।
- রাঁধুনিরা আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রিধারী ও দক্ষ পেশাদার।