ভোট জালিয়াতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ! বায়োমেট্রিক চালুর প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় নোটিশ

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং চোখের মণি (আইরিস) স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি
আইনজীবী ও বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় সংবিধানে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই পিটিশনটি দাখিল করেছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ভোটদান প্রক্রিয়াকে আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা। আবেদনের পেছনে প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
- জালিয়াতি রোধ: বর্তমান ব্যবস্থায় ভুয়া ভোট প্রদান এবং একজনের একাধিক বুথে ভোট দেওয়ার মতো সমস্যা রয়ে গেছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হলে কেবল প্রকৃত ও নিবন্ধিত ভোটারই ভোট দিতে পারবেন।
- স্বচ্ছতা বজায় রাখা: ঘুষ এবং পেশ পেশিশক্তির প্রভাব কাটিয়ে গণতন্ত্রের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা এই প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য।
- আধুনিকায়ন: ভোটার কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল করা।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও চ্যালেঞ্জ
বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে চলমান বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে এই পদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতের সংসদীয় ও বিধানসভা নির্বাচনে এই পথ বেছে নেওয়া উচিত কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে আদালত।
এই আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রধান কিছু চ্যালেঞ্জও উঠে এসেছে:
- আর্থিক বোঝা: দেশজুড়ে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি বসানো সরকারি কোষাগারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে।
- বিধি সংশোধন: নির্বাচনী নিয়মনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, যা দীর্ঘসময়ের ব্যাপার।
- প্রযুক্তিগত জটিলতা: প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে হাই-টেক বায়োমেট্রিক মেশিনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।
মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না পেয়েই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। এখন কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে ভারতীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ভোটদানের রূপরেখা।
একঝলকে
- বায়োমেট্রিক ভোটিং নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ।
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানিং ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তকরণের দাবি।
- ভুয়া ভোট ও নির্বাচনী জালিয়াতি রুখতে এই জনস্বার্থ মামলা।
- বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনে এটি কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আদালত।
- প্রকল্পের উচ্চ খরচ এবং আইন সংশোধনের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে শীর্ষ আদালত।