অন্ধকারে পাকিস্তান: করাচিতে গ্যাস নেই, মুলতানে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং— দিশেহারা শাহবাজ সরকার!

অন্ধকারে পাকিস্তান: করাচিতে গ্যাস নেই, মুলতানে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং— দিশেহারা শাহবাজ সরকার!

পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট। সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে তীব্র গ্যাস সংকট এবং পাঞ্জাবের গ্রামীণ অঞ্চলে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় দেশটির সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে করাচির মতো মেগাসিটিতে রান্নার গ্যাসের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

গ্যাস সংকটে করাচিতে হাহাকার

গত দুই সপ্তাহ ধরে করাচির বাসিন্দারা নজিরবিহীন গ্যাস লোডশেডিংয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় শহরের বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে মানুষ এখন রাস্তার ধারের রেস্তোরাঁ, তন্দুর এবং এলপিজি স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শহরের হোটেল ও ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলো এখন বাধ্য হয়ে কাঠের চুলা ব্যবহার করছে। এমনকি এক টুকরো রুটি বা নানের জন্য মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জনজীবনে বহুমুখী প্রভাব

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন গৃহিণী ও শিক্ষার্থীরা। সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পারায় পারিবারিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে, যা তাদের আসন্ন পরীক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারেরও সংকট দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি বনাম বর্তমান বাস্তবতা

সুই সাউদার্ন গ্যাস কো ম্পা নি (এসএসজিসি) তাদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলেছে। যদিও কো ম্পা নির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, খাবারের সময়গুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে এবং সিস্টেমে পর্যাপ্ত চাপ রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পাঞ্জাবে ১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট

জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে পাঞ্জাব প্রদেশেও। মুলতান ইলেকট্রিক পাওয়ার কো ম্পা নির (মেপকো) আওতাধীন গ্রামীণ এলাকায় দৈনিক প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। মুজাফফরগড় ও খানেওয়ালের মতো জেলাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আকাশচুম্বী হওয়ায় কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সংকটের নেপথ্যে ভূ-রাজনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সামনের দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ আরও হ্রাস পেতে পারে। আগামী এক মাসের মধ্যে পাকিস্তানের গ্যাস সংকট ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একঝলকে

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ফলে জ্বালানি আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব।

করাচিতে দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং।

রান্নার জন্য তন্দুর ও কাঠের চুলার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

পাঞ্জাবের গ্রামীণ এলাকায় দৈনিক ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

এসএসজিসি-র পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিকের দাবি করা হলেও বাস্তবে সংকট চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *