ED-র জালে I-PAC ডিরেক্টর: ৫০% চেকে আর বাকিটা নগদে! সামনে এল কোটি কোটি টাকার হাওলা যোগসূত্র

ED-র জালে I-PAC ডিরেক্টর: ৫০% চেকে আর বাকিটা নগদে! সামনে এল কোটি কোটি টাকার হাওলা যোগসূত্র

রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ডিরেক্টর বিলেশ চন্দেলের ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। মঙ্গলবার ভোরে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার রাতে নাটকীয় গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলে আইনি শুনানি। বিলেশ চন্দেল পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ওই সংস্থায় তার ৩৩ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে।

আর্থিক লেনদেনে দ্বৈত নীতি ও হাওলা যোগ

প্রবর্তন অধিদপ্তর (ইডি)-এর তদন্তে উঠে এসেছে বিলেশ চন্দেল এবং তার সংস্থার কাজ করার এক চাঞ্চল্যকর পদ্ধতি। তদন্তকারীদের দাবি আই-প্যাক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্য অর্থের ৫০ শতাংশ নিত ব্যাংকিং চ্যানেলে এবং বাকি অর্ধেক নিত নগদে। মূলত রেকর্ড থেকে টাকা আড়াল করতেই এই কৌশল নেওয়া হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লির পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এই আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ভুয়ো ইনভয়েস ও তথ্য লোপাটের অভিযোগ

তদন্তে ইডি আরও গুরুতর কিছু তথ্য সামনে এনেছে:

  • বোগাস ইনভয়েস: বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থকে বৈধ দেখাতে আই-প্যাক অসংখ্য ভুয়ো বিল তৈরি করত। বাস্তবে কোনো পরিষেবা না দিলেও নথিতে তা দেখানো হতো।
  • লেয়ারিং: অবৈধ টাকা সরাসরি সিস্টেমে না ঢুকিয়ে বিভিন্ন স্তরে ঘুরিয়ে বৈধ আয়ে রূপান্তর করা হতো।
  • প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা: ইডির অভিযোগ বিলেশ চন্দেল এবং অন্যান্য ডিরেক্টররা মিলে কর্মীদের অ্যাকাউন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইমেল এবং আর্থিক তথ্য মুছে ফেলেছেন।

রাজনৈতিক সংযোগ ও পূর্বের অভিযান

এর আগে কলকাতার সল্টলেকে আই-প্যাকের দপ্তরে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়েছিল। বিলেশ চন্দেলের এই গ্রেপ্তারি জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে কারণ আই-প্যাক দেশের একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করে থাকে। ইডির দাবি জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিলেশ অনেক তথ্য গোপন করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়েছেন।

একঝলকে

  • গ্রেপ্তার: আই-প্যাক ডিরেক্টর বিলেশ চন্দেল ইডির হাতে ধৃত।
  • আদালতের নির্দেশ: ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।
  • প্রধান অভিযোগ: পিএমএলএ (PMLA) আইনে মামলা এবং হাওলা লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পাচার।
  • কৌশল: অর্ধেক টাকা চেকে এবং বাকিটা নথিবহির্ভূতভাবে নগদে গ্রহণ।
  • তদন্তের কেন্দ্র: ভুয়ো বিল তৈরি এবং ডিজিটাল প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *