৬ ঘণ্টা নয়, এবার দিল্লি থেকে দেহরাদুন মাত্র ২ ঘণ্টায়! আজই উদ্বোধন করছেন মোদী

রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন যাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বহু প্রতীক্ষিত ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের (DDE) উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। এই প্রকল্পের ফলে সাড়ে ৬ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর এখন মাত্র ২ থেকে আড়াই ঘণ্টায় নেমে আসবে। প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মহাসড়কটি দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব নকশা
দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়েটি কেবল দ্রুত গতির জন্য নয়, বরং এর অনন্য নির্মাণ শৈলীর জন্যও আলোচিত। এই মহাসড়কের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ওয়াইল্ডলাইফ এলিভেটেড করিডোর’, যা এশিয়ার বৃহত্তম। রাজাজি ন্যাশনাল পার্কের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এটি দেশের প্রথম ‘সাউন্ডপ্রুফ’ বা শব্দনিরোধক এক্সপ্রেসওয়ে, যা বনের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় বন্যপ্রাণীদের জন্য শান্ত পরিবেশ বজায় রাখবে।
যাতায়াত ও সংযোগ ব্যবস্থা
মহাসড়কটি পূর্ব দিল্লির অক্ষরধাম থেকে শুরু হয়ে উত্তরপ্রদেশের বাগপত, শামলি, মুজাফফরনগর ও সাহারানপুর হয়ে দেরাদুনে পৌঁছাবে। এই রুটে ভ্রমণের বিশেষ কিছু দিক হলো:
- এলিভেটেড রোড: ৪৪ কিলোমিটার পথ মাটির ওপর দিয়ে বা এলিভেটেড ব্রিজে অতিক্রম করতে হবে।
- সংযুক্তি: এটি ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে এবং চারধাম হাইওয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।
- সুবিধা: যাত্রীদের আরামের জন্য ১২টি বিশ্রামাগার (Rest Area), ৬২টি বাস শেল্টার এবং ১১৩টি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে।
গতিসীমা ও টোল ব্যবস্থা
এই ৬ লেনের মহাসড়কে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও থাকছে। এক্সপ্রেসওয়েতে ট্র্যাক্টর-ট্রলি, দু-চাকা এবং তিন-চাকার যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম অমান্য করলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যদিও বর্তমানে টোল ট্যাক্স নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রিপোর্ট অনুযায়ী একদিকের সফরের জন্য প্রায় ৬৭০-৬৭৫ টাকা খরচ হতে পারে যা ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা
এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে কেবল যাতায়াত সহজ করবে না, বরং উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করবে। পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনটি প্রধান নির্মাণ সংস্থা—গাভার কনস্ট্রাকশন, কৃষ্ণা কনস্ট্রাকশনস এবং শিব বিল্ড ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এনএইচএআই (NHAI) এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
একঝলকে
- মোট দৈর্ঘ্য: ২১০ কিলোমিটার।
- নির্মাণ ব্যয়: আনুমানিক ১১,৮৬৮ থেকে ১৩,০০০ কোটি টাকা।
- সফরের সময়: সাড়ে ৬ ঘণ্টার বদলে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা।
- বিশেষ বৈশিষ্ট্য: দেশের প্রথম সাউন্ডপ্রুফ এক্সপ্রেসওয়ে এবং এশিয়ার বৃহত্তম এলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর।
- গতিসীমা: ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার।
- নিষিদ্ধ যানবাহন: বাইক, অটো ও ট্র্যাক্টর।
- প্রধান শহর সংযোগ: দিল্লি, বাগপত, শামলি, সাহারানপুর এবং দেরাদুন।