স্কুলের খাবার কেড়ে নিল প্রাণ: ওড়িশায় বিষক্রিয়ায় মৃত ছাত্রী, অসুস্থ আরও ১০০ সহপাঠী!

ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় একটি সরকারি আদিবাসী আবাসিক স্কুলে নিম্নমানের খাবার খাওয়ার ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রবিবারের বাসি খাবার খাওয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়া শতাধিক পড়ুয়ার মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ছাত্রীর মৃত্যু
ময়ূরভঞ্জ জেলার কাকাবাঁধা আশ্রম স্কুলের পড়ুয়ারা রবিবার সকালে প্রাতরাশে এমন কিছু খাবার খায় যা মেনু তালিকায় ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, শিশুদের পান্তা ভাত (পাখালা), মশলাযুক্ত আলু এবং আমের চাটনি খেতে দেওয়া হয়েছিল। এই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই পড়ুয়ারা বমি ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হতে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সোমবার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রূপালী বেসরাকে পিএমআর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তার মৃত্যু হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ৬৭ জন পড়ুয়া বারিপাদার মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া আরও ৪১ জন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে। স্কুল এবং হাসপাতাল চত্বরে মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে যাতে দ্রুত অসুস্থদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। জেলা কালেক্টর হেমা কান্ত সায় জানিয়েছেন, কিছু ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও তদন্ত
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গাফিলতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে:
- কর্তব্যে অবহেলার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
- মৃত ছাত্রীর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
- পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি একটি স্বাধীন বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- তদন্তে উঠে এসেছে যে, নির্ধারিত তালিকার বাইরে কেন অনিরাপদ খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল।
সম্ভাব্য প্রভাব ও জনরোষ
আবাসিক স্কুলগুলোতে খাবারের গুণমান বজায় রাখা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে প্রশ্ন রয়েছে, এই ঘটনা তাকে আবারও উস্কে দিয়েছে। স্থানীয় মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চললেও প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে। যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে খাবারটি নিম্নমানের বা বাসি ছিল, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
একঝলকে
- ঘটনাস্থল: ময়ূরভঞ্জ জেলার কাকাবাঁধা আশ্রম স্কুল, ওড়িশা।
- হতাহতের সংখ্যা: ১ জন ছাত্রীর মৃত্যু, ১০০ জনেরও বেশি অসুস্থ।
- অসুস্থতার কারণ: মেনু বহির্ভূত পান্তা ভাত ও নিম্নমানের খাবার গ্রহণ।
- গৃহীত পদক্ষেপ: প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত ও ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা।
- তদন্তের বিষয়: কেন মেনু ভেঙে অনিরাপদ খাবার সরবরাহ করা হলো।