চীনা ক্লাউড দিয়ে ভারতীয় সেনার ওপর নজরদারি! পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর ভয়াবহ চক্রান্ত ফাঁস

ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ফাটল ধরাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান এবার চিনা প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অভিযানে উন্মোচিত হয়েছে এক ভয়াবহ তথ্য। জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় চিনা সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে সীমান্ত এবং সেনা ছাউনিগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছিল পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)।
যেভাবে কাজ করছিল এই গুপ্তচর নেটওয়ার্ক
দিল্লি পুলিশের দুটি গোপন অভিযানে ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি ‘EseeCloud’ নামক একটি চিনা ক্লাউড সিস্টেম ব্যবহার করছিল। সোলার পাওয়ার বা সৌরশক্তি চালিত এই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো। এর মাধ্যমে সংগৃহীত লাইভ ভিডিও ফুটেজ সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পৌঁছে যেত।
নিশানায় ছিল ভারতের যেসব স্পর্শকাতর এলাকা
দেশের যেসব এলাকায় সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীর গতিবিধি সবচেয়ে বেশি, সেই জায়গাগুলোকেই এই নজরদারির জন্য বেছে নিয়েছিল চক্রটি। তালিকায় ছিল:
- পাঞ্জাব: কাপুরথালা, জলন্ধর, পাঠানকোট, পাটিয়ালা ও মোগা।
- হরিয়ানা: আম্বালা।
- জম্মু-কাশ্মীর: কাঠুয়া।
- রাজস্থান: বিকানের ও আলওয়ার।
সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্র ও বড় নাশকতার ছক
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে নিষিদ্ধ খলিস্তানি সংগঠন ‘বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল’-এর সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মূলত ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতামূলক হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই ভারতীয় সেনার কৌশলগত অবস্থান ও যাতায়াতের সময় সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করছিল তারা। এমনকি দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন এবং সেনানিবাসের লাইভ দৃশ্য অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে পাচার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ
এই চিনা প্রযুক্তি ব্যবহারের নেপথ্যে কিছু উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে:
- সহজলভ্যতা: সস্তা ও সহজে স্থাপনযোগ্য হওয়ায় এই ক্যামেরাগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
- ভুয়া পরিচয়পত্র: নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিম কার্ডগুলো সংগ্রহের জন্য জাল আধার কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।
- বেসরকারি ক্যামেরা: সরকারি দপ্তরে ভারতীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হলেও, সেনাসংলগ্ন বেসরকারি এলাকায় চিনা ক্যামেরার ব্যবহার নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএসএফ (BSF)-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশাল কুচক্র ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে থাকা সমস্ত বেসরকারি সিসিটিভি ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি ও পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো।
একঝলকে
- চিনা ক্লাউড সিস্টেম ‘EseeCloud’ ব্যবহার করে ভারতে নজরদারি।
- দিল্লি পুলিশের অভিযানে মোট ১১ জন গ্রেফতার।
- পাঞ্জাব, রাজস্থান ও জম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনি ছিল মূল লক্ষ্য।
- নিষিদ্ধ খলিস্তানি সংগঠন বাব্বর খালসা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
- সৌরচালিত ক্যামেরা ও সিম কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানে ভিডিও পাচার।